নতুন প্রজন্মের হলিউড অভিনেত্রীদের মধ্যে বর্তমানে অন্যতম আলোচিত নাম ইন্ডে নাভারেত্তে। সম্প্রতি ‘অবসেশন’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। প্রথমবারের মতো জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন আইএমডিবিতে। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই মার্কিন এই অভিনেত্রী অভিনয়জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ৫ ফুট উচ্চতার ইন্ডে আজ তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় মুখ হলেও তাঁর এই সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী শৈশব থেকেই অভিনয় ও নাচের প্রতি প্রবল আগ্রহী ছিলেন। পরিবারে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা থাকলেও পেশাদার অভিনয়ে আসার পথ ছিল অনিশ্চিত। স্কুলজীবনেই নাটক ও পারফর্মিং আর্টসে যুক্ত হওয়া ইন্ডে অভিনয়ের অনেক কলাকৌশল শিখেছেন ইউটিউব দেখে। কৈশোরে বড় স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিজোনার ছোট শহর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একের পর এক অডিশনে ব্যর্থতা এবং চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার গ্লানি সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। তবে প্রতিটি প্রত্যাখ্যানই তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
একাধিক সাক্ষাৎকারে ইন্ডে জানিয়েছেন, লাতিন বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে তাঁকে নানা স্টেরিওটাইপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক চরিত্রের জন্য তাঁকে ‘খুব বেশি লাতিন’ কিংবা ‘যথেষ্ট লাতিন নন’—এমন মন্তব্যও শুনতে হয়েছে। লাতিন বলে বাদও দেওয়া হয়েছে। এমনকি উচ্চতা এবং বয়স নিয়েও নানা নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন তিনি। তবে প্রতিভা ও পরিশ্রমের জোরে সব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার সংকল্পে অটল ছিলেন এই অভিনেত্রী।
২০১৮ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইন্ডের অভিনয় জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে ‘থার্টিন রিজনস হোয়াই’ সিরিজে ক্রুজ চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। এরপর ‘সুপারম্যান অ্যান্ড লোইস’ সিরিজে সারা কুশিং চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সম্প্রতি একজন ইউটিউবার নির্মিত স্বল্প বাজেটের সিনেমা ‘অবসেশন’ বক্স অফিসে রেকর্ড গড়েছে। মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত এই সিনেমাটি ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। সম্পর্ক ও মানসিক জটিলতা নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে ইন্ডের অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বর্তমানে আইএমডিবির শীর্ষ ২৫০ সিনেমার তালিকায় ২৪৭তম অবস্থানে রয়েছে সিনেমাটি, যার রেটিং ৮.১।
ইন্ডে নাভারেত্তে মনে করেন, পর্দায় বিভিন্ন জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষের গল্প আরও বেশি আসা প্রয়োজন। ছোট শহর থেকে এসে বারবার হোঁচট খেয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়াকেই নিজের বড় অর্জন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য সবসময় বড় বাজেটের সিনেমার প্রয়োজন হয় না; বরং সঠিক চরিত্র নির্বাচন এবং অভিনয়ের প্রতি নিবেদনই একজন শিল্পীকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়।






