প্রিয় মালতী, ফেউ, ২ষ, প্রেশার কুকারসহ একাধিক সিনেমা ও সিরিজে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন রিজভী রিজু। সম্প্রতি তিনি চরকির ‘পাওয়ার হাউস অব টুমোরো অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। তরুণ এ অভিনেতার পথচলার শুরুর গল্প জানাচ্ছেন মনজুরুল আলম।

২০১১ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বিনোদনজগতে যাত্রা শুরু করেন রিজভী রিজু। পরিচালক সামির আহমেদ, পিপলু আর খান, আবদুল্লাহ মোহম্মদ সাদ এবং মেজবাউর রহমান সুমনের মতো নির্মাতাদের অধীনে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি। ক্যামেরার পেছনে থাকলে কী হবে—তাঁর মন পড়ে থাকত গানের দিকেই। গান ছিল তাঁর ভালোবাসা। গানকে ঘিরে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন থাকলেও সুযোগ মিলছিল না। পরে ২০১৫ সালে সাউন্ড ডিজাইনার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালে পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের হাওয়া সিনেমায় অভিনয়ে নাম লেখান রিজু। রিজুর ভাষ্য, ‘প্রিয় গান নিয়েই যখন থাকা হচ্ছে না, তখন অভিনয় অঙ্গনে একটু ঘুরে আসা যাক—এমন ভাবনা থেকেই প্রথম সিনেমায় নাম লেখাই।’

রিজুর অভিনয় দর্শকের নজর কাড়ে হাওয়া সিনেমায়। এরপর আরও কয়েকটি সিনেমায় যুক্ত হন তিনি। দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে রিজু বলেন, ‘নতুন একটা জগৎ ভালো লাগতে শুরু করে। একসময় মনে হলো আগে তো চাকরি করতে গিয়ে গান হারিয়েছি, এবার আর চাকরির জন্য অভিনয়কে জীবন থেকে হারাতে চাই না। সাহস নিয়ে চাকরি ছেড়ে অভিনয় শুরু করে দিলাম। এখন অভিনয়ই আমার ধ্যানজ্ঞান।’

নিজের অবস্থান নিয়ে রিজভী বলেন, ‘আমি আমার যোগ্যতা জানি। নিজেকে কোথায় দেখতে চাই, সেই লক্ষ্যও আমার কাছে পরিষ্কার। নায়ক হওয়াটা যেমন কঠিন, তেমনি কখনো আমার জন্য অপ্রাসঙ্গিক। আমার মনে হয় সবাই অভিনেতা হতে আসে। অভিনয় দিয়ে সে যখন সামনে আসে, তখন হয়তো তাকে নায়কের জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়। আমি চরিত্রাভিনেতা হতে এসেছি। চারপাশের বহু চরিত্রকে তুলে ধরতে চাই।’ তাঁর ধারণা, নায়কের ক্ষেত্রে যেমন সীমাবদ্ধতা থাকে, চরিত্রাভিনেতাদের ক্ষেত্রে তেমন অভাব নেই।

বন্ধু ও সহকর্মীরা নাকি তাঁকে ভাগ্যবান অভিনেতা বলেও থাকেন। কারণ, সময়ের আলোচিত সব নির্মাতার মধ্যে মেজবাউর রহমান সুমন, রায়হান রাফী, নুহাশ হুমায়ূনসহ প্রায় সবার সঙ্গেই কাজ করার সুযোগ হয়েছে তাঁর। গুণী নির্মাতাদের কাছে অভিনয়ের স্কুলিং হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। গত ঈদুল ফিতরে প্রেশার কুকার সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তাঁর অভিনয় পছন্দ করেছেন দর্শক—এমনটাই জানান রিজভী। তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের কারণে দর্শক আমাকে চিনতে পারতেন না। অনেকেই বলতেন হাওয়ার পরে আর অভিনয় করিনি কেন? আসলে অভিনয় তো করেছি। কিন্তু অনেকেই চিনতে পারেননি। এটা প্রেশার কুকার সিনেমার পরে শুনতে হচ্ছে না। কদিন আগে একসঙ্গে তিনটি শর্টফিল্ম লোক, ফর সেল ও হুদাই মিস ইউটিউবে প্রচারিত হয়েছে। কাজগুলো দেখে দর্শক কানেক্ট করতে পেরেছেন। এখন দর্শক কাজ দিয়ে চিনছেন।’

এর পাশাপাশি আবার গানের দিকেও ফিরতে চান রিজু। তিনি বলেন, ‘মহসীন নিধিসহ আমরা কয়েকজন একসঙ্গে গান করেছি।। আমরা আবার গান নিয়ে ফেরার পরিকল্পনা করছি। কিছু স্টেজ শো করব। এটাও আমার কোর জায়গা। হয়তো বড় পরিসরে গান নিয়ে কাজের সুযোগ পাব না। কিন্তু যে সুযোগ পাব, সেটাকেই কাজে লাগাতে চাই। কারণ, অভিনয় কিংবা গান, যা–ই বলেন, হুট করে একজন ম্যাইকেল জ্যাকসন তৈরি হয় না, আবার হুট করে একজন শাকিব খানও তৈরি হয় না। সবাইকেই স্ট্রাগল করে এগোতে হয়।’ আদনান আল রাজীব পরিচালিত অলটাইম দৌড়ের ওপর নাটকের ‘ও বন্ধু লাল গোলাপি’ গানটির কভার করার কথাও বলেন তিনি। তখন একাধিক ইভেন্ট ও করপোরেট শো করতেন বলে জানান রিজভী।

অনুরাগ কশ্যপের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যাত্রায় ‘দেলুপি’—এ প্রসঙ্গও উঠে আসে প্রতিবেদনে।

সিনেমা ও ওটিটিতে সরব থাকলেও নাটকে তাঁর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তিনি বলেন, ‘আমি নাটকে কাজ করতে চাই। চরিত্র পছন্দ হলেই ছুটে যাব। আসলে আমি সব মাধ্যমেই ভালো সুযোগের অপেক্ষায় আছি।’

গত শুক্রবার চরকির কার্নিভ্যাল থেকে আগামী দিনের সম্ভাবনাময় অভিনয়শিল্পী হিসেবে ‘পাওয়ার হাউস অব টুমোরো অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন রিজু। তিনি মনে করেন, ‘এই অ্যাওয়ার্ড আমাকে অনেক উৎসাহ দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, সঠিক কাজটিই করে যাচ্ছি।’ বর্তমানে বেশ কিছু সিনেমা ও ওটিটির কাজ নিয়ে ব্যস্ত রিজু। সময় হলেই সেগুলো জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।