ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা চলছে পুরোদমে। রাত জেগে খেলা দেখার কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকরা ঘুমের সমস্যায় পড়ছেন। এর ফলে পরদিন অফিস বা ক্লাসে মনোযোগ দিতে অনেকেরই অসুবিধা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে একটি ছোট্ট 'পাওয়ার ন্যাপ'। ১০ থেকে ২০ মিনিটের এই স্বল্প সময়ের ঘুম আপনার কাজের গতি বাড়িয়ে দিতে যথেষ্ট।

দিনের বেলা অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়ে নিলে শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটি যেমন কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তেমনি মনকে চনমনে রাখতে এবং মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে ন্যাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘুমের সময়সীমা। কারণ, ঘুম খুব বেশি দীর্ঘ হয়ে গেলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলায় মাত্র ১০ মিনিটের একটি ছোট ঘুমও নানা ধরনের উপকার বয়ে আনে। এটি অ্যালার্টনেস বাড়ায়, শেখার ক্ষমতাকে আরও ধারালো করে এবং রক্তচাপ কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি মাত্র ৫ মিনিটের ন্যাপও ক্লান্তি কাটাতে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, কতক্ষণের ন্যাপ সবচেয়ে বেশি উপকারী? চিকিৎসকদের মতে, সাধারণভাবে ২০ মিনিটের ন্যাপই সবচেয়ে কার্যকর। এর কারণ হলো, ২০ মিনিটের বেশি ঘুমালে মানুষ গভীর ঘুমের পর্যায়ে চলে যায়। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর সতেজ বোধ করার পরিবর্তে ঝিমুনি, অবসন্নতা এবং আগের চেয়ে আরও বেশি ক্লান্তি অনুভব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কেউ যখন সর্বোচ্চ ২০ মিনিট ঘুমান, তখন তিনি মূলত ঘুমের প্রথম অথবা দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকেন। কিন্তু সময়সীমা এর বেশি হলে ব্যক্তি ঘুমের তৃতীয় পর্যায়ে চলে যান, যা শরীরকে গভীর ঘুমের দিকে নিয়ে যায়। মস্তিষ্ককে সতেজ করে তুলতে ঘুমের প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকাই যথেষ্ট।

সূত্র: হেলথলাইন