দেশে রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত আমদানি করা এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকেরাও এর আওতায় ভুগতে পারেন—এমন পরিস্থিতির কথাই জানাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এলএনজির সরবরাহ ৩০ শতাংশ কমে গেছে—ফলে মোট সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকে। এর মধ্যে ২টি টার্মিনাল থেকে ১০০–১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে গতকাল সোমবার গভীর রাত থেকে ধাপে ধাপে ৩০ কোটি ঘনফুট কমানো হয়েছে। এতে এখন ৭৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। আবহাওয়া ঠিক হলে আবার এলএনজির সরবরাহ বাড়ানো হবে।
পেট্রোবাংলা সূত্র আরও জানায়, দেশে দিনে সরবরাহ করা মোট গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। ফলে এলএনজির সরবরাহ কমলে গ্যাসের সংকটও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহ কমায় ইতিমধ্যে সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে অনেক এলাকায় রান্নার চুলা জ্বালাতে সমস্যা হতে পারে। শিল্পও চাহিদামতো গ্যাস পাবে না। কমতে পারে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
এ অবস্থায় গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর টার্মিনালগুলো থেকে এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট কমেছে। এ কারণে তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকপ্রান্তে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত চাপ কম থাকবে।






