নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়ক ও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুক্তকণ্ঠের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এইCS এই সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। শরC শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বরিশাল ও চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ নিয়মিত এই সড়কটি ব্যবহার করেন। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কেবল যানজটHHL তবেই নয়, বরং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ের নাওডোবা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে। ২০২১ সালে এই নির্মাণকাজ শুরু হলেও প্রকল্পের আওতায় ৩৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের কাজ ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। দুই দফায় নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর জানা গেছে, তৃতীয় দফায় ঠিকাদার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছেন।
অসমাপ্ত কাজের ফলে সৃষ্ট ভোগান্তির চিত্র স্পষ্ট। প্রতিদিন এই পথে প্রায় এক হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। সদর উপজেলার কোটাপাড়া এলাকায় কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি না হওয়ায় এখনো পুরোনো সেতুটিই ব্যবহার করতে হচ্ছে। একইভাবে জাজিরার কাজীরহাট এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজ আংশিক শেষ করে ফেলে রাখা হয়েছে, যার ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন যাত্রীরা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ার কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। তবে প্রকল্প শুরুর দীর্ঘ সময় পর ভূমি অধিগ্রহণের মতো প্রাথমিক জটিলতা নিরসন করতে না পারাটা হতাশাজনক। এটি মূলত প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতারই বহিঃপ্রকাশ, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
প্রকল্পটি কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনিশ্চিত অবস্থান আরও হতাশা বাড়াচ্ছে। এই দীর্ঘসূত্রতা ও সমন্বয়হীনতা দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর সামগ্রিক চিত্রকেই প্রতিফলিত করে। জনভোগান্তি নিরসনে অবিলম্বে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা সমাধান করা প্রয়োজন। আশা করা যায়, কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুর কাজ সম্পন্ন করে জনগণকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবে।






