বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। এই হারের মধ্য দিয়ে ফুটবলের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের যবনিকাপাত ঘটল।
নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। পুরো ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ তৈরি না হওয়ায় লড়াইটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলে যখন ধারণা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই শেষ মুহূর্তের গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় স্প্যানিশরা। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা স্পেনের পরবর্তী প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম ম্যাচের বিজয়ী দল।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটাই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বমঞ্চ থেকে এই কিংবদন্তির বিদায়টা হলো বিষাদময়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর অশ্রুসিক্ত চোখে একাই মাঠ ছাড়তে দেখা যায় তাকে। ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্ন নিয়ে আসা রোনালদোর যাত্রাটা শেষ হলো অনেকটা নীরবেই। ৪১ বছর বয়সে এই টুর্নামেন্টের গতি ও তীব্রতার সঙ্গে তিনি কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় ছিল। মাঠের পারফরম্যান্সেও সেই ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়লেও এবারের আসরে রোনালদোর স্মৃতি খুব একটা সুখকর নয়। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুটি এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি পেনাল্টি গোল ছাড়া বাকি সময় তাকে নিজের ছায়া হয়েই থাকতে হয়েছে। বিশেষ করে স্পেনের বিপক্ষে নকআউট পর্বে তিনি ছিলেন প্রায় নিষ্প্রভ। প্রথমার্ধে রোনালদো মাত্র ১২ বার বল স্পর্শ করতে পেরেছেন, যা মাঠে থাকা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে কম। এমনকি স্পেনের সেন্টার ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবালও তার চেয়ে ৯ বার বেশি বল স্পর্শ করেন।
পুরো ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত সতর্কতাপূর্ণ। স্পেন ও পর্তুগাল একে অপরকে আটকে রাখার কৌশলে লড়েছে। লামিন ইয়ামাল বারবার পেনাল্টি বক্সে ঢোকার চেষ্টা করলেও পর্তুগিজ রক্ষণভাগ তাকে প্রতিহত করে। অন্যদিকে ব্রুনো ফার্নান্দেস ও রোনালদোও স্প্যানিশ রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত দুই বদলি খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। একটি দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিকের সময় পর্তুগাল রক্ষণভাগ মনোযোগ হারালে সুযোগটি কাজে লাগান ফেরান তোরেস। বক্সের কিনারায় বল পেয়ে দারুণ এক থ্রু পাস বাড়ান মিকেল মেরিনোর দিকে। বক্সে ঢুকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান মেরিনো। ক্লাব ফুটবলে ৯ নম্বর পজিশনে খেলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্ট্রাইকারসুলভ ফিনিশিংয়ে দলকে উল্লাসে মাতান তিনি।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি। আজকের পারফরম্যান্স তাদের সেরা না হলেও, কঠিন ও ধৈর্যের পরীক্ষায় কীভাবে জয় ছিনিয়ে নিতে হয়, স্পেন আবারও তার প্রমাণ দিল।






