১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২—এই পাঁচবার বিশ্বকাপ জয় করে ফুটবল বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করেছে ব্রাজিল। তবে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার ফলে আরও দীর্ঘ হলো সেলেসাওদের বিশ্বকাপ ট্রফি-খরা। আসরসংখ্যার হিসেবে এটিই ব্রাজিলের দীর্ঘতম অপেক্ষা, যদিও বছরের হিসেবে এটি যৌথভাবে দীর্ঘতম।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে সব আসরেই অংশ নিয়েছে ব্রাজিল। ১৯৩০ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার প্রথম ট্রফি জিততে তাদের সময় লেগেছিল ২৮ বছর। এর মাঝে ১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৫০ ও ১৯৫৪—মোট পাঁচটি আসর তারা ট্রফিশূন্য কাটিয়েছিল। এরপর ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বজয় করে ব্রাজিল।

পরবর্তীতে ৮ বছরের অপেক্ষার পর ১৯৭০ সালে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে জুলেরিমে ট্রফি চিরতরে নিজেদের করে নেয় তারা। এরপর ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬ ও ১৯৯০—পাঁচটি আসরে ট্রফিশূন্য থাকার পর দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষা শেষ করে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে চতুর্থ শিরোপার দেখা পায় সেলেসাওরা।

২০০২ বিশ্বকাপে পঞ্চম শিরোপা বা ‘পেন্টা’ জয় করে ব্রাজিল। এরপর থেকেই ষষ্ঠ শিরোপা বা ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্নে বিভোর সমর্থক ও খেলোয়াড়রা। তবে সেই স্বপ্ন এখনো অধরা। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—টানা ছয়টি আসরে ট্রফিশূন্য রয়েছে তারা। ২০৩০ বিশ্বকাপ আসার আগেই ব্রাজিলের এই অপেক্ষা ২৮ বছরে পৌঁছাবে, যা আসরসংখ্যার হিসেবে তাদের ইতিহাসের দীর্ঘতম খরা।

‘হেক্সা’ জয়ের পথে গত ছয় আসরের ব্যর্থতার খতিয়ান নিম্নরূপ:

২০০৬ বিশ্বকাপ: কার্লোস আলবার্তো পাহেইরার অধীনে রনালদো ও কাফুদের মতো তারকাখচিত দল নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল ব্রাজিল। তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে জিনেদিন জিদানের অসাধারণ নৈপুণ্যের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় তারা। জিদানের সেট পিস থেকে ফ্রান্সের হয়ে গোলটি করেন থিয়েরি অঁরি।

২০১০ বিশ্বকাপ: কোচ কার্লোস দুঙ্গার অধীনে কাকা, রবিনিও ও দানি আলভেজদের নিয়ে শক্তিশালী দল গড়েছিল ব্রাজিল। পোর্ট এলিজাবেথে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় তারা। প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে রবিনিওর গোলে এগিয়ে গেলেও, বিরতির পর ৫৩ ও ৬৮ মিনিটে ওয়েসলি স্নাইডারের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ব্রাজিল।

২০১৪ বিশ্বকাপ: ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ায় ‘হেক্সা’ জয়ের প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেমিফাইনালে লুই ফেলিপে স্কলারির দল জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের এক দুঃস্বপ্নময় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়, যা ফুটবল ইতিহাসে ‘মিনেইরাজ্জো’ নামে পরিচিত। চোটের কারণে ওই ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার।

২০১৮ বিশ্বকাপ: নেইমার, ফিলিপ কুতিনিও, মার্সেলো ও কাসেমিরোদের ওপর ভর করে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। কাজানে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে রেনাতো অগাস্তো গোল করলেও, কেভিন ডি ব্রুইনার গোল এবং ফার্নান্দিনিওর আত্মঘাতী গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় তারা।

২০২২ বিশ্বকাপ: কাতারের আল রাইয়ানে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে লড়াই করে নেইমার, রদ্রিগো ও মার্কিনিওসরা। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে (১০৫+১) নেইমারের গোলে এগিয়ে গেলেও ১১৭ মিনিটে ব্রুনো পেতকোভিচের গোলে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হেরে বাড়ি ফেরে ব্রাজিল।

২০২৬ বিশ্বকাপ: নিউ জার্সিতে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ছিল আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। হলান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় ইউরোপের এই দল। ম্যাচে একদম শেষ সময়ে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন নেইমার, তবে প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেন ব্রুনো গিমারাইস।

এদিকে নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত ভুল বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার।