অনলাইন গণমাধ্যম ফেস দ্য পিপল-এর প্রকাশক ও সম্পাদক সাইফুর রহমানকে (সাগর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে গত বুধবার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলার আবেদনটি করেন সাইফুর রহমান। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ডিবিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ওবাইদুল্যাহ আল মামুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ফেসবুক পেজ থেকে মিথ্যা তথ্য এবং বিকৃত অডিও-ভিডিও প্রকাশ করে সাইফুর রহমানের সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।"

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সম্পাদিত ও বিকৃত অডিও ব্যবহার করে সাইফুর রহমান সাগরকে চাঁদাবাজ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়। এতে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মামলায় মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কাজী রিয়াজ রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন— আবু মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সৈয়দা প্রিয়াংকা, কাজী রায়হান রহমান ও সৈয়দ ফারহানা ইয়াসমিন। মোট পাঁচজনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আবেদনে আরও জানানো হয়, এর আগে ‘যাকাতের টাকায় সুদের কারবার, মাস্তুলের অভিনব প্রতারণা’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের জেরে সাইফুর রহমানের বক্তব্য বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, গত রোববার ফেস দ্য পিপল-এর সম্পাদক সাইফুর রহমান ও প্রতিবেদক মোহাম্মদ ইউসুফের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মানহানির অভিযোগে পাল্টা মামলা করেছেন মাস্তুল ফাউন্ডেশনের আবু মো. কামরুজ্জামান। আদালত সেই মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।