বাংলাদেশে ব্রাজিলের ফুটবল সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পাওলো এফ ডি ফেরেস। সোমবার সন্ধ্যায় ব্রাজিল দূতাবাস থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এই অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
গতকাল রাতে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সমর্থকরা শোকার্ত। এমন এক সময়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের আশ্বস্ত করে রাষ্ট্রদূত জানান, ‘আমাদের জাতীয় দলের প্রতি আপনাদের ভালোবাসা আমাদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। ব্রাজিলের হলুদ জার্সি আবার ঝলমল করবে। ফিরে আসবে সুরের মূর্ছনা।’
বার্তায় রাষ্ট্রদূত পাওলো এফ ডি ফেরেস বলেন, “বাংলাদেশে বসবাসকারী ব্রাজিলের প্রিয় বন্ধুরা, ফুটবলে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন নীরবতা যেন কথার চেয়েও জোরালোভাবে কিছু বলে। শেষ বাঁশি বাজার পর, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ব্রাজিলিয়ানের হৃদয় একই রকম হতাশার ভার অনুভব করেছে। আমি জানি, সেই হৃদয়গুলোর অনেকেই এখানে, বাংলাদেশে ছিল।”
বাংলাদেশি সমর্থকদের আন্তরিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এই দেশে থাকা ব্রাজিলের অসাধারণ সমর্থকদের আমি প্রথমেই বলতে চাই: ধন্যবাদ। আমাদের জার্সি পরার জন্য, আমাদের পতাকা ওড়ানোর জন্য, আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য গান গাওয়ার জন্য এবং এমন উদার ও আন্তরিক আবেগ নিয়ে ব্রাজিলের ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমাদের জাতীয় দলের প্রতি আপনাদের ভালোবাসা আমাদের গভীরভাবে নাড়া দেয়।’
ফুটবল ও ব্রাজিলীয় সংস্কৃতির গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পাওলো ফেরেস বলেন, এই পরাজয় কষ্ট দেয়। কষ্ট দেয় কারণ ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ফুটবল কখনোই শুধু একটি খেলা নয়। এটি স্মৃতি, শৈশব, পরিবার, সংগীত, আনন্দ, আশা এবং কখনো কখনো আজকের মতো, হৃদয় ভেঙে যাওয়া। কিন্তু হৃদয় ভেঙে যাওয়া প্রতিটি মহান ভালোবাসারই একটি অংশ। আর ব্রাজিল ও ফুটবলের মধ্যকার ভালোবাসা বহু বেদনাদায়ক রাত পেরিয়ে টিকে আছে।
ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা রেখে তিনি আরও জানান, ‘ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের ফুটবল সমন্বয়কারী রদ্রিগো কাইতানো, দুজনেই আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে এটি কোনো গল্পের শেষ নয়, বরং একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তাঁরা নতুন করে শুরু, অঙ্গীকার, ধৈর্য ও ভবিষ্যতের প্রতি আস্থার কথা বলেছেন। এই কথাগুলো তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রাজিল আবার ঘুরে দাঁড়াবে—পরাজয় সহজে কাটিয়ে ওঠা যায় বলে নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোই আমাদের সত্তার অংশ।’
বাংলাদেশি সমর্থকদের ভ্রাতৃত্ববোধের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশি বন্ধুরা যাঁরা আমাদের সঙ্গে কষ্ট ও আনন্দে এমনভাবে শামিল হয়েছেন, যেন ব্রাজিল আপনাদেরও ঘর, আমাদের গভীরতম কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন। আপনাদের এই স্নেহ ব্রাজিলীয় জনগণের জন্য একটি উপহার। এমন মুহূর্তে আমরা উপলব্ধি করি যে ফুটবল দূরত্ব, ভাষা বা সীমানার চেয়েও শক্তিশালী এক ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করতে পারে।’
পরিশেষে আশাবাদ ব্যক্ত করে পাওলো ফেরেস বলেন, ‘হলুদ জার্সি আবার ঝলমল করবে। সুর ফিরে আসবে। আনন্দ ফিরে আসবে। আর যখন ব্রাজিল আবার জেগে উঠবে, আমরা তাদের স্মরণ করব, যারা সবচেয়ে কঠিন রাতে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।’






