ঢাকার ধামরাইয়ে আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ সকালে উপজেলার কালামপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে তাঁরা এ বিক্ষোভ করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পর তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান।

আন্দোলনকারীরা জানান, প্রায় দুই বছর ধরে ধামরাই উপজেলার গোয়ালদী, বাটুলিয়া, মহিষাশী, কাওয়ালীপাড়া থেকে সাটুরিয়া পর্যন্ত এলাকায় তিতাস গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। রান্নার কাজে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে জ্বালানি হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ও কাঠ ব্যবহার করতে হচ্ছে তাঁদের। পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ না থাকলেও নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তাঁরা জানান, উপজেলার কালামপুর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের ডিআরএস (ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন) থেকে তাঁদের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হলেও ওই লাইনে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাস পাচ্ছেন না। ডিআরএসের পূর্ব পাশে থাকা একটি রি–রোলিং মিল এবং কালামপুর বিসিক শিল্পনগরী–সংলগ্ন এলাকায় একটি সিরামিক কারখানা অবৈধভাবে বুস্টার ব্যবহার করে অতিরিক্ত গ্যাস টেনে নেওয়ায় আবাসিক এলাকায় গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

কালামপুর এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ সুলতানা বেগম বলেন, ‘সকালে আমরা ঠিকমতো রান্না করতে পারি না। আমাদের একটাই দাবি, বাসায় পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে হবে। আর যত দিন গ্যাস পাইনি, তত দিনের বিল মওকুফ করতে হবে।’

মানিকগঞ্জের গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মাতুব্বর মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সকাল ১০টার দিকে আবাসিক এলাকায় গ্যাসসংকট নিরসনসহ পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের দাবিতে কালামপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে গোলড়া হাইওয়ে পুলিশ এবং ধামরাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ওসি বলেন, ধামরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন তিতাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করা হবে জানালে অবরোধকারীরা বেলা সোয়া ১১টার দিকে সড়ক থেকে সরে যান।