ময়মনসিংহ নগরের একটি ভাড়া বাসায় রাজিব আহম্মেদ (৪০) নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
নিহতের বাবা বাদী হয়ে বাড়ির মালিকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গতকাল রোববার রাত ১২টার পর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করা হয়।
.নিহত রাজিব নগরের আর কে মিশন রোড এলাকার আবদুল হামিদের ছেলে।
নিহত রাজিবের বাবা মো. আবদুল হামিদ মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, প্রায় ১৫ দিন আগে রাজিব আর কে মিশন রোডে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস শুরু করেন। বাসা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে বাড়ির মালিক তাঁকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তিনি সময় চাইলেও বাড়ির মালিক ও তাঁর ছেলেরা নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে আবারও বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বাড়ির মালিক ও তাঁর ছেলেদের সঙ্গে অন্য আসামিরা রাজিবের কক্ষে ঢুকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে চলে যান।
.খবর পেয়ে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের মরদেহ শয়নকক্ষের বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ কল করা হলে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠান।
স্থানীয় লোকজন জানান, রাজিবকে হত্যার আগে বাসার সামনের সড়কে থাকা তাঁর চাচাতো ভাই মো. শুভর একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন হামলাকারীরা।
.পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সজল (৪০) ও রনি (৪০) নামের দুজনকে আটক করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। পরে গতকাল রাতে তাঁদের থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার এজাহারে সজলকে ৭ নম্বর এবং রনিকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজন চন্দ্র পাল বলেন, হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ডিবি পুলিশের হাতে আটক দুজনকে এজাহারে আসামি করা হয়েছে। কী কারণে হত্যা, বিষয়টি এখনো জানা যায়নি। আসামিদের আজ আদালতে তোলা হবে।
এদিকে ঘটনার পর জেলা পুলিশ জানায়, পিবিআই মূল অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়েছে।
.ময়মনসিংহে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার, মুখ খুলছেন না কেউ.মামলাটি তদন্তের জন্য আজ দুপুরে পিবিআই সদর দপ্তর থেকে জেলা পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, কোতোয়ালি থানায় হওয়া মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত। তাই মামলাটি পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কর্তৃক তদন্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আশরাফুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।






