বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আজ রোববার সকাল থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
রাত আটটার দিকে বিষয়টি মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি বলেন, সমুদ্রে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল থাকায় বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে হাতিয়ার বিভিন্ন ঘাট থেকে কোনো নৌযান ছেড়ে যায়নি।
ইউএনও আরও বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে রোববার সকাল থেকে দিনভর কখনো হালকা, কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। সাগরও উত্তাল রয়েছে।
হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সকালে জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক যাত্রী চেয়ারম্যানঘাট ও নলচিরা ঘাটে এসে জড়ো হন। তবে নৌযান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর বেশির ভাগ যাত্রী ফিরে যান। নদী উত্তাল থাকায় সি-ট্রাক, ফেরি, স্পিডবোট ও যাত্রীবাহী ট্রলারসহ কোনো নৌযানই চলাচল করেনি।
নদী পার হতে না পেরে চেয়ারম্যানঘাট থেকে জেলা শহরে ফিরে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাফর আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জরুরি কাজে সকালে তিনি চেয়ারম্যানঘাটে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, কোনো নৌযান চলাচল করছে না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিকেলে তিনি জেলা শহরে ফিরে আসেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবার হাতিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে নোয়াখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে।






