পথ আটকে ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চেয়ে এক নারীর ফেসবুকে লাইভ করার পর আলোচনায় আসা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় আজ রোববার বিকেলে।

প্রজ্ঞাপনে আফরোজ শাহীন খসরুকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ থেকে প্রত্যাহার করে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

.পঞ্চগড়ে ইউএনওর পথ আটকে ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চেয়ে নারীর ফেসবুক লাইভ.

এ ঘটনার আগেই আফরোজ শাহীন খসরুকে বদলির আদেশ হয়েছিল। ২৪ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার এক আদেশে তাঁকে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। এর মধ্যে তাঁর মধ্যে ঘুষের অভিযোগ ওঠে।

২৯ জুন দুপুরের পর তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু হেঁটে যাওয়ার সময় পথরোধ করেন রেহেনা বেগম উর্মি নামের এক নারী। এ সময় ইংরেজিতে ‘উর্মি আক্তার’ নামে নিজের ফেসবুক আইডিতে লাইভ শুরু করেন তিনি এবং ইউএনওকে ঘুষ হিসেবে দেওয়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত চান ওই নারী।

এ সময় ইউএনও ওই নারীকে চেনেন না বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে ওই নারী ও ইউএনও বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। তখন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার টাকা ফেরত চান রেহেনা বেগম। পরে তাঁর লাইভ করা ৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

.

একই দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে রেহেনা বেগম তেঁতুলিয়ার ইউএনওর বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগে ছেলেকে গ্রাম পুলিশের চাকরি দেওয়ার কথা বলে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু তাঁর (ওই নারীর) কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। সেই টাকা ফেরত চাওয়ায় বিভিন্নভাবে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ওই নারী।

এ ঘটনার পর ইউএনওর পক্ষে ৩০ জুন তেঁতুলিয়ায় দুই দফা মানববন্ধন করা হয়। এদিন বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের’ ব্যানারে ও সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলা শহরের তেঁতুলতলায় ‘উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ’ ব্যানারে মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন থেকে ইউএনওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, ওই নারীসহ ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

এসব ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন রকমের হুমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না বলে গত মঙ্গলবার রাতে মুক্তকণ্ঠের কাছে মুঠোফোনে দাবি করেন রেহেনা বেগম। তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাগুরা এলাকার বাসিন্দা। রেহেনা টিকটক ও রিলস ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতেন।

.

গত বুধবার দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় রেহেনা বেগমের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ছয়জনকে আসামি করে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ইউএনওর পথরোধ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করে ব্ল‍্যাকমেইলিং করা ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

আজ সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘গত শুক্রবার এই চিঠি পেয়েছি। তবে আমাকে কোন তারিখে দায়িত্ব ছাড়তে হবে, সেখানে সেই তারিখ উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে ডিসি অফিস থেকে যেদিন যেতে বলবে, সেদিনই হয়তো যেতে হবে।’