রোজ অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দেন দন্তবিশেষজ্ঞরা। তবে বাস্তবতা হলো, এমন বহু মানুষ আছেন, যাঁরা রাতে শোবার আগে ব্রাশ করেন না। অথচ শোবার আগের এই দুই মিনিটের ছোট্ট কাজ না করার কারণেই পরে দেখা দেয় নানা সমস্যা।
রাতে ব্রাশ না করলেও প্রাথমিক অবস্থায় তেমন সমস্যা অনুভূত হয় না। যেহেতু ঘুম থেকে ওঠার পর ব্রাশ করলে মুখের দুর্গন্ধ চলে যায়, তাই রাতে ব্রাশ করার বিষয়টা অনেকের কাছে তেমন গুরুত্ব পায় না। অথচ রাতে ব্রাশ না করার কারণে নিজের অজান্তেই দাঁতের ভয়াবহ ক্ষতি করে চলেছেন তাঁরা। ব্যাপারটা সহজভাবে ব্যাখ্যা করলেন সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর এবং কনজারভেটিভ ডেন্ট্রিস্টি অ্যান্ড এন্ডোডন্টিকস্ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মানজুমা আকতার জাকারিয়া।
স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মুখের ভেতর লালার নিঃসরণ হয়। সারা দিন কমবেশি চলতে থাকে এ প্রক্রিয়া। খাওয়ার সময় এ নিঃসরণ বাড়ে। কথা বলা কিংবা হাসি-কান্নার সময়ও লালার নিঃসরণ বাড়ে। কিন্তু ঘুমানোর সময় এ নিঃসরণ খুবই কমে যায়। আবার যাঁরা গভীর রাতে জেগে থাকেন, তাঁরাও সে সময় তেমন খাওয়াদাওয়া করেন না। মোটকথা, দিনের চেয়ে রাতে লালা নিঃসৃত হয় কম।
.লালার নিঃসরণ কমে গেলে কী হয়, তা বোঝার জন্য প্রথমে জেনে নেওয়া যাক মুখের ভেতরকার জীবাণুর বিষয়ে। আমাদের দেহের বিভিন্ন অংশে কিছু জীবাণু থাকে। এসব জীবাণু আমাদের জন্য উপকারী। তবে কিছু পরিস্থিতিতে এসব জীবাণু দিয়েও সংক্রমণ হয়। যখন পর্যাপ্ত লালা নিঃসৃত হয়, তখন মুখের ভেতরকার স্বাভাবিক জীবাণুগুলো সেখানে জমা হতে পারে না। কিন্তু রাতে যখন লালা নিঃসরণ কমে যায়, তখন এসব জীবাণু লম্বা সময়ের জন্য জমা হয় মুখে। এসব জীবাণুর কারণেই তখন ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব জীবাণুর প্রভাবে দাঁতের ফাঁকে বা গোড়ায় জমে থাকা খাবারের ক্ষুদ্র কণাগুলোয় পচন ধরতে থাকে।
.বদলে গেছে ডেঙ্গুর ধরন, বিপদগুলো জানুন.আরও একটি মারাত্মক বিষয় হলো, এসব জীবাণু অ্যাসিড তৈরি করে এবং সেই অ্যাসিড জমে থাকে মুখে। এ কারণে ক্ষয় হতে থাকে দাঁতের এনামেল। অ্যাসিডের কারণে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখে টক ভাবও থাকতে পারে। বাড়ে বিপদের ঝুঁকি-
.এত সব প্রাণরাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার কারণে দাঁতের ওপর একটা বাড়তি স্তর তৈরি হয়। একে বলা হয় প্লাক। দাঁতের অধিকাংশ সমস্যার জন্যই দায়ী এ প্লাক।
মুখে দুর্গন্ধ হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাতে ব্রাশ না করার অভ্যাস থাকলে একসময় এ দুর্গন্ধ প্রায় স্থায়ী হয়ে যায়। এতে একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে যায়।
দাঁতের ফাঁকে বা গোড়ায় জমে থাকা ময়লা একসময় ছোট ছোট সাদাটে পাথরের মতো হয়ে যায়। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়ে। খুব বেশি শক্ত হয়ে গেলে দন্তবিশেষজ্ঞের সাহায্য ছাড়া এগুলো সরানো যায় না।
দাঁতের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। হলদে কিংবা বাদামি দেখায়। অনেকের দাঁতে দাগ পড়ে যায়।
দাঁতের এনামেল ক্ষয় হলে ঠান্ডা বা গরম খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। এ ধরনের কোনো খাবার খেতে গেলে শিরশিরে অনুভূতি হয়। ক্যাভিটির (দাঁতের ক্ষয়) মতো কঠিন সমস্যা দেখা দেয়।
জীবাণুর সংক্রমণ ও প্রদাহ হয় মাড়িতে। মাড়ি ফুলে যায়, লালচে হয় যায়, ব্যথা হয়।
মাড়ির গুরুতর প্রদাহ (পেরিওডোন্টাইটিস) দাঁতের আশপাশের হাড়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে। দাঁত পড়ে যেতে পারে।
দাঁত কিংবা মাড়ির এমন নানা সমস্যায় পছন্দের নানা খাবারের স্বাদ নেওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাতে মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
দাঁত ও মাড়ির অবস্থা যত জটিল হয়, চিকিৎসাও হয়ে ওঠে ততটাই ব্যয়বহুল।চাই সুস্থতার চর্চাএত সব বিপদ এড়ানোর জন্য সুস্থতার চর্চা করা জরুরি। তবে তা খুব কঠিন কিছু নয়।
রোজ দুবার দাঁত ব্রাশ করুন—রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে নাশতার পর।
রাতে ব্রাশ করার পর পানি ছাড়া আর কিছু খাবেন না।
প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর কুলকুচি করুন। ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার কর






