কেউ নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, বিভাগ ও আবাসিক হল নিয়ে গল্পে মেতে উঠেছেন, কেউ ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন, আবার কেউ কৌতূহলী চোখে ঘুরে ঘুরে দেখছেন স্বপ্নের ক্যাম্পাস। অনেকেই মুঠোফোনে বন্দী করে রাখছেন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম দিনের স্মৃতিগুলো। আর পাশে দাঁড়িয়ে সন্তানের নতুন পথচলার সূচনা উপভোগ করছেন অভিভাবকেরা। নতুন মুখ, নতুন পরিচয় আর নতুন স্বপ্নে যেন মুখর পুরো ক্যাম্পাস।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে ঘুরে চোখে পড়ে এমনই দৃশ্য। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নবীন শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায় ক্যাম্পাস। দীর্ঘ ভর্তি-যুদ্ধ পেরিয়ে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পা রাখার আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশা ছড়িয়ে পড়েছিল নবীনদের চোখে–মুখে।

.৩৬% শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন না.

আজ সকাল ৯টায় শুরু হয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান। এবারের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় দুটি ধাপে। প্রথম ধাপে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও কৌশল, জৈব চিকিৎসা কৌশল, ইলেক্ট্রনিকস ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওরিয়েন্টেশন এবং দ্বিতীয় ধাপে বেলা সাড়ে ১১টায় পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পানিসম্পদ কৌশল, মেকাট্রনিকস ও শিল্প প্রকৌশল, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস ও মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বিভাগের ওরিয়েন্টেশন শেষে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের পরিচিতি সভায় যোগ দেন।

.

ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ আবদুল মতিন ভূঁইয়া, সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো.সাইফুল ইসলাম। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন উপস্থিত ছিলেন।

.২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে: শিক্ষামন্ত্রী.

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর হেলাল বলেন, ‘চুয়েট এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ তো বটেই, সারা বিশ্বে সুনামের সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন। আমি এখানে আইনে পড়াশোনা করেছি। তারপর ২২ বছরের পেশাদার জীবনে আমার অনেক প্রকৌশলীর সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়েছে। তাঁদের চিন্তাধারা, তাঁদের কর্ম সবার থেকে আলাদা। তাঁরা মানুষের জীবন সহজ করার জন্য, সুন্দর করার জন্য কাজ করেন। আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের কাজে আত্মনিয়োগ করবেন। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে এবং বিশ্বকে আলোকিত করবেন। চুয়েটকে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দেবেন।’

.

ওরিয়েন্টেশনে এসে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থী তাউসিফ ইসলাম। মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘চুয়েটে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন অনেক দিনের। আজ ওরিয়েন্টেশনে এসে সেই স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলো। নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, বিভাগ ও ক্যাম্পাস সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি। সব মিলিয়ে দিনটি আমার জন্য খুবই আনন্দের ও স্মরণীয়।’

স্থাপত্য বিভাগে ভর্তি হয়েছেন লাবণ্য বর্মণ। মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘ওরিয়েন্টেশনে শিক্ষক ও বড় ভাই-বোনদের আন্তরিকতা দেখে অনেক ভালো লেগেছে। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেছি, সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। আশা করছি, এখানকার শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা আমার সেই স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করবে।’

.

এদিকে ছেলেকে নিয়ে ওরিয়েন্টেশনে আসা দিদারুল ইসলামের সঙ্গেও মুক্তকণ্ঠের কথা হয়। তিনি জানান, ‘আমার বাড়ি চট্টগ্রামেই। এখানে ছেলে ভর্তি হয়েছে। পরিবেশটাও দারুণ। বেশ ভালো লাগছে এই ক্যাম্পাস দেখে। ছেলের এই ক্যাম্পাস নিয়েও আমি আশাবাদী।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি চুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৯৩১টি আসনে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন।