পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় ভায়াডাক্টের নিচ থেকে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, প্রয়োজনেই মাটি কাটা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই অপরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে না; বরং প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও চুক্তির অংশ হিসেবেই কাজটি চলছে। এতে ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে না।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন। এর আগে ঢাকা-মাওয়া পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম মাটি অপসারণ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা, প্রকল্পের নকশা ও ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
.শেখ রবিউল আলম বলেন, কিছু সংবাদে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মনে হয়েছে, মাটি অপসারণের কারণে ভায়াডাক্ট ঝুঁকির মুখে পড়বে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
রেলমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের সময় এলাকাটি জলাভূমি হওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে ভরাট করা হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অস্থায়ী ভরাট করা হয়। কাজ শেষ হলে সেসব ভরাট অপসারণ করে জমিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এটিও সেই প্রক্রিয়ার অংশ এবং প্রকল্পের চুক্তিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রবিউল আলম বলেন, ইতিমধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার এলাকায় অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করা হয়েছে। এখন মাত্র ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি। ঠিক এই সময়ে মাটি অপসারণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ ফুট মাটি অপসারণ করা হবে। এরপর আগের স্বাভাবিক ভূমির স্তরে পৌঁছানো যাবে। সেই স্তরের ৮ ফুট নিচে রয়েছে ৬ ফুট পুরু পাইল ক্যাপ এবং তারও নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে ভায়াডাক্টের পাইল স্থাপন করা হয়েছে। সবকিছু প্রকৌশলগত হিসাব-নিকাশ ও নকশা অনুসারেই হয়েছে। ফলে মাটি অপসারণের সঙ্গে ভায়াডাক্টের নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই।
.পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটায় উদ্বেগ, বন্ধ করল প্রশাসন.সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় মানুষের উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার। এ নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক আছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রেলওয়ে দেশের স্বার্থে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ভায়াডাক্টের নিরাপত্তার বিষয়ে তারা সচেতন। এ বিষয়ে জনগণকে আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদসহ জেলা প্রশাসন, রেলওয়ে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






