চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বিদায়ী অর্থবছরে ৫৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। সংস্থাটির ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১০০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। গত বছর আয় হয়েছিল ৪৫৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গৃহকরসহ রাজস্ব আয়ের সব কটি খাত থেকে আগের অর্থবছরের তুলনায় এবার বেশি টাকা আয় হয়েছে সংস্থাটির।

সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা তাঁর লক্ষ্য। রাজস্ব আদায়ের জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এ জন্য অতীতে অযৌক্তিকভাবে যেসব গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেগুলো যৌক্তিক করতে নিয়মিত রিভিউ বোর্ড বসানো হচ্ছে। বন্দর থেকে ২০০ কোটি টাকা গৃহকর আদায় করা হয়েছে। প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

গৃহকর খাতে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৩৮৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আদায়ের হার ১১৫ শতাংশ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকেই আদায় হয়েছে ১৯৮ কোটি টাকা।

সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) গৃহকর আদায় হয়েছিল ৩০৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে এবার সর্বোচ্চ গৃহকর আদায় হয়েছে। এর আগে সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে কখনো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গৃহকর আদায় করতে পারেনি।

সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয়ের অন্যান্য খাতের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় হয়েছে ভূমি হস্তান্তর ফি থেকে, এই খাতে আদায় ৯৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ফি খাতে ৩০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, এস্টেট শাখা থেকে ৩৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, সপসাইন ফি ৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, বিজ্ঞাপন কর দেড় কোটি টাকা আদায় হয়। গতবারের তুলনায় এবার সব কটি খাতে আয় বেড়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, এবার তাঁদের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। গৃহকর, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন খাতে রাজস্ব আদায়ে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন নির্দেশনা ছিল। আপিল শুনানিগুলোতে মেয়র নিজেই উপস্থিত থাকতেন। তাঁদের পক্ষ থেকেও নিয়মিত তদারক করা হয়েছে। তবে এখন যে পরিমাণ অর্থ আদায় হয়েছে, এর চেয়ে আরও বেশি আয় করার সুযোগ রয়েছে। সামনের অর্থবছরে এ ব্যাপারে তাঁরা কাজ করবেন।