জাপানের বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচে ফেরা, এরপর দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার যে রোমাঞ্চ সেলেসাওরা দেখিয়েছেন, তা আর দশজনের মতো ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিওকেও মুগ্ধ করেছে।

ম্যাচের পর ব্রাজিলের দৈনিক ‘ও গ্লোবো’তে লেখা এক কলামে তিনি পুরো ম্যাচের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করার পাশাপাশি ব্রাজিলের ফুটবল নিয়ে কিছু আশার কথাও শুনিয়েছেন।

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করা ব্রাজিল আর গত রাতে জাপানের স্বপ্ন চুরমার করা ব্রাজিলের মধ্যে তফাতটা যেন আকাশ-পাতাল। রাতারাতি দলের এই উন্নতিকে ইতিবাচক মনে করছেন রোমারিও।

.

কলামে তিনি লিখেছেন, ‘জাপানের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমাদের পারফরম্যান্সকে আমি ১০-এর মধ্যে ৮ দেব। আগেও বলেছি, আমাদের দল ধীরে ধীরে উন্নতি করছে, আর বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচে ফিরে যোগ করা সময়ে জয় তুলে নেওয়াটা ভক্তদের হৃৎস্পন্দনের পরীক্ষা নিয়ে নিয়েছিল বলে মনে করছেন ৯৪-এর বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।

সঙ্গে ম্যাচের শুরুটা যে ব্রাজিলের মোটেও ভালো হয়নি, সেটাও অকপটে লিখেছেন তিনি, ‘প্রথমার্ধে আমরা খুব একটা ভালো খেলতে পারিনি। বলের দখল বেশি থাকলেও প্রতিপক্ষকে কার্যকরভাবে চাপে ফেলতে পারিনি। ধীরে ধীরে খেলায় উন্নতি দেখা গেছে। মনে হচ্ছিল গোল আসা শুধু সময়ের ব্যাপার। জাপানি খেলোয়াড়দের তুলনামূলক কম উচ্চতার সুযোগ আমরা ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছি।’

.

কাসেমিরোর গোলে সমতা ফেরার পর মার্তিনেল্লি এনে দেন জয়সূচক গোল। তবে রোমারিও দুজনের কাউকেই আলাদা করে কৃতিত্ব দিতে রাজি নন। তাঁর মতে, ‘এই ম্যাচের আসল নায়ক কোনো একক খেলোয়াড় নন, বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। পুরো ম্যাচে জাপান মূলত নিজেদের অর্ধে রক্ষণে মনোযোগ দিয়েছে এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু ব্রাজিল হাল ছাড়েনি।’

.ব্রাজিলিয়ানরা বাংলাদেশকে ভালোবাসে, বললেন আলিসন.

দলের এমন জয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তির গলায়ও প্রশংসার মালা পরিয়েছেন এই কিংবদন্তি। কোচের কৌশলের প্রশংসা করে রোমারিও লিখেছেন, ‘আনচেলত্তির বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তগুলো ছিল দারুণ কার্যকর। মার্তিনেল্লি ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় ছিলেন। দারুণ এক দলগত আক্রমণে পায়ে পায়ে বল নিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি জালে পাঠান। বলটি পোস্টে লেগে ভেতরে ঢোকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়! সত্যি বলতে, ড্র আমাদের প্রাপ্য ছিল না।’

.

শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এবার নরওয়ে কিংবা আইভরিকোস্টের মুখোমুখি হতে হবে ব্রাজিলকে। রোমারিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সামনে আরও কঠিন লড়াইই অপেক্ষা করছে ব্রাজিলের জন্য।

তবে দলের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে, ‘সামনে নরওয়ে হোক কিংবা আইভরিকোস্ট—যে–ই আসুক না কেন, কঠিন প্রতিপক্ষই হবে। দুটি দলই নিঃসন্দেহে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে। তবে আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা আবারও পরবর্তী ধাপে উঠতে এবং ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে পুরোপুরি সক্ষম।’

.‘আমরা আর প্রথম সারির দল নই’, মেনে নিলেন জার্মানির কোচ