প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ক্লাস (হাতে-কলমে শিক্ষা) নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু, শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে এবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায় কলেজের সামনে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভ করেন।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে সড়কের উভয় পাশে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। এতে রোদের মধ্যে তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁদের দাবির বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। পরে বেলা পৌনে ১টায় তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিভিন্ন দাবিতে গত ১০ দিন ধরে আন্দোলন করছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার তাঁরা জেলা সদরে সমাবেশ করেছেন। তার আগের দিন একই স্থানে ‘রোড ব্লকেড’ কর্মসূচি করা হয়। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ সকাল ১০টায় প্রথমে তাঁরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। এরপর কলেজের সামনে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এ সময় বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে বক্তব্য দেন কলেজের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহপরান ভুঁইয়া ও তামিমা রহমান, দ্বিতীয় ব্যাচের পিয়াস চন্দ্র দাস, শামসিয়া তাবাসসুম মাইমা ও সাইদুল ইসলাম সাকিব প্রমুখ। শিক্ষার্থীরা বলেন, এক বছর ধরে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতাল চালু হয়নি। আর আশ্বাসে কাজ হবে না। এখন স্পষ্ট বলতে হবে—কবে হাসপাতাল চালু হবে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, মেডিকেল কলেজের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে হয়। এ জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে তাঁরা এই শিক্ষা নেন। কিন্তু হাসপাতাল চালু না হওয়ায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। কলেজে হাসপাতালের ১০ তলা ভবন পড়ে আছে। গত বছরের জুনে হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এত বছর চলে গেছে। এখনো হাসপাতাল চালুর কোনো উদ্যোগে দেখা যাচ্ছে না। এতে তাঁরা হাতে-কলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক আহমেদ ভুঁইয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা তালিকা চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। হাসপাতাল চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন লোকবল নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। এরপর সড়কের উভয় পাশে আটকে পড়া যানবাহনগুলো চলাচল করতে শুরু করে। প্রচণ্ড রোদে ভোগান্তিতে ছিলেন যাত্রীরা। পরে তাঁরা যান চলাচল স্বাভাবিক করে এখন শহরে ফিরছেন। এখন সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। দুই বছর পর ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর জেলা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে কলেজে পাঁচটি ব্যাচে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী আছেন। কলেজে ৯৪ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ৫২ জন।