গারিঞ্চা, পেলে, রিভেলিনো, রোনালদো, রোনালদিনিও...চাইলে আরও অনেক নাম যোগ করা যায়। ব্রাজিল ফুটবলে এসব কিংবদন্তির পাশাপাশি ড্রিবলিংয়ে দক্ষ ফুটবলারের আসলে অভাব নেই। বটে! এই কথাটা এক লহমায় বলে ফেলা গেলেও বিশ্বকাপে কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।

খেলাধুলার তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণী প্ল্যাটফর্ম অপ্টা জানিয়েছে, এবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের মধ্যে গ্রুপ পর্বে ড্রিবলিংয়ে সবচেয়ে কম সাফল্যের হার ব্রাজিলের। গ্রুপ পর্বে ৫৯টি ড্রিবলিং প্রচেষ্টায় মাত্র ২০ বার সফল হয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। সাফল্যের হার ৩৪ শতাংশ।

.

এবার বিশ্বকাপে ড্রিবলিং প্রচেষ্টার তালিকায় সাতে ব্রাজিল। তবে জায়গাটি তাদের একার নয়। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া এবং জনসংখ্যা বিচারে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ক্ষুদ্রতম দেশ কুরাসাও সাত নম্বর জায়গায় ভাগ বসিয়েছে। তবে ড্রিবলিংয়ের চেষ্টায় আধিপত্য আফ্রিকার দলগুলোর।

৭৬ বার ড্রিবলিংয়ের প্রচেষ্টায় তালিকায় সবার ওপরে মরক্কো। আলজেরিয়া ৭৫ বার চেষ্টা করে দুয়ে এবং ৭০ বার চেষ্টা করে তিনে আইভরিকোস্ট।

.

ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ড্রিবলিংয়ে সবচেয়ে সফল ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সাতবার ড্রিবলিংয়ে সফল হন। এর মধ্যে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোলের পাশাপাশি পাঁচবার ড্রিবলিংয়ে সফল হন ভিনি। তাঁর অন্য দুটি সফল ড্রিবলিং হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে।

ড্রিবলিংয়ে সাফল্যের হারে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে ক্রোয়েশিয়া। তাদের ৬৮ শতাংশ ড্রিবলিংই সফল হয়েছে; যেখানে মোট ৩৪টি চেষ্টার মধ্যে ২৩ বারই তারা সফল হয়েছে। তবে ড্রিবলিং–চেষ্টার কোনো শতকরা হিসাব ছাড়া শুধু সফল ড্রিবলিংয়ের মোট সংখ্যা বিবেচনা করলে সবাইকে পেছনে ফেলেছে আইভরিকোস্ট। সফলভাবে মোট ৪২টি ড্রিবলিং করেছে আফ্রিকার দলটি।

.

এবার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ৭২ ম্যাচে গোল হয়েছে ২১৫টি। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি (১১৯টি) গোল ফুটবলারদের ‘ফার্স্ট টাচ’ বা প্রথম ছোঁয়ায়। নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের ৪টি এবং লিওনেল মেসির ৬ গোলের মধ্যে ৩টিই এসেছে এভাবে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এবার ম্যাচপ্রতি গড়ে ২.৯ গোল হয়েছে, যা কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের গোলগড়কে (ম্যাচপ্রতি ২.৫ গোল) ছাড়িয়ে গেছে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ হয়েছিল ৩২টি দল নিয়ে। এবার প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নিয়েছে বিশ্বকাপে, তাই ম্যাচের সংখ্যাও বেশি।

.

এবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মোট ২৫ শতাংশ গোলই এসেছে সেট পিস থেকে। ‘অপ্টা’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮টি গোলের উৎস ছিল কর্নার কিক, ৫টি এসেছে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে, ৬টি থ্রো-ইন থেকে এবং ৭টি গোল এসেছে সেট পিস থেকে তৈরি করা যৌথ আক্রমণে। পেনাল্টি থেকে গোল হয়েছে ৮টি।

.জাপান ম্যাচে ব্রাজিলিয়ানদের ‘মন বসছে না অফিসের টেবিলে’.

কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সেট পিস থেকে গোল হয় মোট ২১ শতাংশ (১২০টি গোলের মধ্যে ২৫টি)। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোল করা দলগুলো হলো জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স; প্রতিটি দলই করেছে ১০টি করে গোল।
এবার বিশ্বকাপে কেবল একটি দলই কোনো গোলের দেখা পায়নি—পানামা। নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে কোনো গোল না করেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। এবার অভিষিক্ত দলগুলোর সবাই গ্রুপ পর্বে অন্তত একটি করে গোল পেয়েছে—জর্ডান (৩), কেপ ভার্দে (২), উজবেকিস্তান (২) এবং কুরাসাও (১)।

.

প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ায় (ট্যাকল) এবার বিশ্বকাপে ‘মাস্টারক্লাস’ নবাগত কেপ ভার্দে। তাদের সাফল্যের হার ছিল চোখধাঁধানো—৭৮ শতাংশ! এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে কেপ ভার্দে। কেপ ভার্দের ঠিক পেছনেই ইংল্যান্ড ও স্পেন; তাদের সাফল্যের হার যথাক্রমে ৭৬ ও ৭৫ শতাংশ।

ট্যাকলে সাফল্যের হারে সবার নিচে কলম্বিয়া (৪৯%)। গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি ট্যাকলের চেষ্টা করা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ব্রাজিল (মোট ৫৮টি)। তবে সেলেসাওদের করা ট্যাকলগুলোর প্রায় অর্ধেকই (৪৬.৬%) ফাউল। একই দশা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনারও। মেসির দল পুরো গ্রুপ পর্বে ৬২টি ট্যাকলের চেষ্টা করেছে, যার মধ্যে ৩৪ শতাংশই ছিল ফাউল।

.বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সেরা একাদশ: মেসি–এমবাপ্পের সঙ্গে যাঁরা আছেন