আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেবে ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ঘাটতি থাকছে অন্তত ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

আজ সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে এই বাজেট প্রস্তাব করেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বাজেট উপস্থাপনকালে কোষাধ্যক্ষ বলেন, পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে গবেষণা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা খাতে ইউজিসি থেকে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুঃখজনক।

অন্যদিকে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন কিংবা জাপানের মতো এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ শুধু মৌলিক ও ফলিত গবেষণার জন্য ব্যয় করে থাকে বলে উল্লেখ করেন কোষাধ্যক্ষ।

কোষাধ্যক্ষ আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বরাদ্দের মোট চাহিদার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪২২ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। চাহিদামতো বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেট ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

প্রস্তাবিত পরিচালন বাজেটের ব্যয়কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর সিংহভাগই বেতন-ভাতা ও পেনশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা, পেনশন ও অবসরসুবিধা মিলিয়ে ব্যয়ের একটি বড় অংশ নির্ধারিত থাকে। অবশিষ্ট অর্থ থেকে পণ্য ও সেবা, মেরামত ও সংরক্ষণ, গবেষণা মঞ্জুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। ফলে গবেষণা, গ্রন্থাগার সমৃদ্ধকরণ, ল্যাবরেটরি আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থী কল্যাণের মতো অত্যাবশ্যক খাতে পর্যাপ্ত অর্থ রাখা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে।

বাজেট উপস্থাপনের সময় কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য ইউজিসির মাধ্যমে সরকার যে অর্থ দেয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাতে নিয়মিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো তহবিল আসে না।

এ সময় কোষাধ্যক্ষ বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সমৃদ্ধ দান তহবিল, শিল্প-সংযোগ ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুদানের মাধ্যমে আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করেছে। আমাদেরও সেই পথে হাঁটতে হবে। এ লক্ষ্যে অ্যালামনাইদের কাছ থেকে আমরা এ খাতে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রত্যাশা করছি।’