২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় প্রকৃত আসামির বদলে আদালতে হাজিরা দেওয়া মনোয়ারা বেগমকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন। আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, আজ দুই দিনের রিমান্ড শেষে মনোয়ারা বেগমকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই ওয়ালিদ হোসেন। আসামিপক্ষে কোনো জামিনের আবেদন করা হয়নি। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ সরকারি চাকরিজীবী নিবেদিতা আহমেদ আদালতে মামলা করেন। মামলার ধার্য তারিখ ছিল এই মাসের ১৬ তারিখ। ওই দিন প্রকৃত আসামি নাসরিন সিকদার আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপি। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ২০ আগস্ট।

এরপর চলতি মাসের ২৫ তারিখ আসামি নাসরিন সিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগমকে আদালতে হাজির করে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। শুনানির সময় আদালতের সন্দেহ হলে মনোয়ারাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি যাচাই করে জানা যায়, তিনি প্রকৃত আসামি নন।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু বাদী হয়ে নাসরিন সিকদার, মনোয়ারা বেগম ও আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পরদিন ২৬ জুন আদালত মনোয়ারার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামি নাসরিন সিকদার ও আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মনোয়ারা বেগমকে আসামি সাজিয়ে আদালতে হাজির হতে প্ররোচিত করেন। এ ছাড়া আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মামলার ওকালতনামায় নিজের হাতে নাম লিখে ভুয়া ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করেন। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিচারিক কার্যধারায় প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।