রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তিন শিক্ষার্থী পদ্মা নদীতে গোসল করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নেওয়ার পর রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার দুপুরে রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মীর সজিব, আশিকুর রহমান ও আজমাইন নগরের তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে নদীর তীরে এক কিশোরের মাছ ধরার জাল টানতে সমস্যা হওয়ায় তাঁরা সহায়তা করতে এগিয়ে যান। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের দিকে এগিয়ে আসেন।
অভিযোগে লেখা হয়, ‘পদ্মার পাড় থেকে ১০-১৫ জন একসঙ্গে এসে আমাদের জিজ্ঞাসা করে, “নেট তুললে কেন?” বলামাত্রই তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা শুরু করে। তারা লাঠিসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে আমাদের মারধর করে গুরুতর আহত করে।’ প্রথমে মীর সজিবকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে আশিকুর রহমান ও আজমাইনও হামলার শিকার হন। সজিব ও আশিকুর সেখান থেকে বের হয়ে এলেও আজমাইন কিছু সময় ঘটনাস্থলেই আটকে ছিলেন বলে অভিযোগে লেখা হয়।
পরে আশিকুর রহমান মতিহার থানায় গেলে ঘটনাস্থল বোয়ালিয়া থানার আওতাধীন হওয়ায় তাঁকে সেখানে যোগাযোগ করতে বলা হয়। একই সময়ে মীর সজিব রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম সরকারকে বিষয়টি জানান। তাঁর উদ্যোগে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। এরপর আহত শিক্ষার্থীরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে বোয়ালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ‘লাম’ ও ‘জিম’ নামের দুজনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমা মুস্তারী বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনা জানার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, শিক্ষার্থীরা থানায় অভিযোগ করেছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।






