শেষ ৩২ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও। জর্ডানের বিপক্ষে এই ম্যাচটা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য ছিল স্রেফ নিয়ম রক্ষার। সেই ম্যাচেও আর্জেন্টিনা হেসেখেলে জিতেছে ৩-১ গোলে। নকআউটের লড়াইয়ে নামার আগে আর্জেন্টিনা দলে বইছে স্বস্তির হাওয়া। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।
আপাতদৃষ্টিতে আর্জেন্টিনাকে খুঁতহীন মনে হলেও কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষকে নিয়ে ঝরল চরম সমীহ। জর্ডানের বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দে যেভাবে খেলেছে, তাতে তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
.সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে স্কালোনি বলেন, ‘ওরা দারুণ একটা দল। গ্রুপ পর্বের তিনটি প্রতিপক্ষকেই ওরা কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে। স্পেনের মতো ফেবারিট, উরুগুয়ে কিংবা সৌদি আরব—সবার বিপক্ষেই ওরা বুক চিতিয়ে লড়েছে। এই বিশ্বকাপে যা দেখছি, তাতে আমাদের ভীষণ সতর্ক থাকতে হবে। ওরা গতিময়, মানসম্পন্ন এবং বেশ গোছানো দল।’
.জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি স্কালোনির জন্য ছিল একাধারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বেঞ্চের শক্তি পরখ করার মঞ্চ। প্রথমার্ধে চেনা ছন্দের বাইরে গিয়েও দলের জয়ে তিনি খুশি। বিশেষ করে নিয়মিত একাদশের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের ম্যাচ টাইম দিতে পেরে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
.অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচে মহানাটকীয় ড্র, বাদ পড়ল ইরান .আজ সবচেয়ে চমকপ্রদ পরীক্ষা ছিল এজেকিয়েল পালাসিওসকে রাইটব্যাক পজিশনে খেলানো। লেভারকুসেনের এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারকে রক্ষণভাগে নামানোর ব্যাখ্যায় স্কালোনি বলেন, ‘এই পজিশনে আমাদের বিকল্প তৈরি রাখা দরকার। নাহুয়েলকে (মলিনা) বিশ্রাম দিয়েছি, কারণ ও লম্বা বিরতির পর ফিরেছে। আর গঞ্জালোকে (মন্তিয়েল) নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইনি। ও আমাদের জন্য নকআউটের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাজে আসবে। আজকের ম্যাচটা ছিল কাউকে ঝুঁকিতে না ফেলে নতুন কাউকে বাজিয়ে দেখার নিখুঁত সুযোগ।’
.তবে ম্যাচের সব আলো তো কেড়ে নিলেন সেই একজনই, যিনি বেঞ্চে বসে থাকলেও খবরের শিরোনাম হন। জর্ডানের বিপক্ষে লিওনেল মেসি শুরুর একাদশে ছিলেন না। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে ফ্রি–কিক থেকে অসাধারণ একটি গোল করেছেন।
ম্যাচ শেষে স্কালোনি জানান, মেসি নিজে থেকেই বেঞ্চে বসতে চেয়েছিলেন, যেন অন্য সতীর্থরা খেলার সুযোগ পান এবং পরবর্তী নকআউট পর্বের জন্য তিনি নিজে তরতাজা থাকতে পারেন।
মেসির এই মানসিকতায় মুগ্ধ স্কালোনি বলেন, ‘আজ ও চাইলে পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারত। প্রতিপক্ষকে অসম্মান না করেই বলছি, ও চাইলে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নিতে পারত। কিন্তু ও চেয়েছিল সতীর্থরা খেলুক, যেন সবাই আগামী ম্যাচগুলোর জন্য তৈরি হতে পারে। এটাই ওর মহত্ত্ব। সাধারণ মানুষ যেসব রেকর্ড বা পরিসংখ্যান নিয়ে মেতে থাকে, লিও সেসবের তোয়াক্কা করে না। দলের প্রতি, সতীর্থদের প্রতি ওর ভালোবাসা কতখানি—এই সিদ্ধান্তই তার প্রমাণ। এর বাইরে ওকে নিয়ে বলার মতো নতুন কোনো ভাষা আমার নেই।’






