প্রশ্ন: আপনার জীবনের ওপর যদি ওয়েব সিরিজ হয়, তার নাম কী হবে—‘অপু: দ্য সারভাইভার’, নাকি ‘চলবে…’?
অপু বিশ্বাস: অবশ্যই ‘অপু দ্য সারভাইভার’ হওয়া উচিত। কারণ, প্রত্যেক নারীর ক্ষেত্রে আমার একটা কথাই বলার থাকবে, সারভাইভাল যদি জীবনের অংশ মনে করে, তাহলে সেটা খুবই ভালো।
প্রশ্ন: নতুন নায়িকারা আপনাকে ‘আপু’ ডাকে, নাকি ‘ম্যাডাম’ ডাকে?
অপু বিশ্বাস: আমাকে সবাই দিদি বলতে বেশি কমফোর্টেবল।
প্রশ্ন: আপনার জীবনের খবর দেখে কি কখনো মনে হয়েছে, সাংবাদিকেরা আপনার জীবন নিয়ে আপনার চেয়েও বেশি জানে?
অপু বিশ্বাস: আসলে সাংবাদিকেরা আমাকে নিয়ে বেশি জানে না। জানার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক সময় ঝড়ে বক মরে, তখন মনে করে ফকিরের কেরামতি! কিন্তু সত্যটা আসলে কখনোই জানে না, আমি নিজে না বলা পর্যন্ত।
.প্রশ্ন: আপনি ব্রাজিল সাপোর্ট করেন, ছেলে জয় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের সময় বাসায় কি গণতন্ত্র চলে, নাকি মাতৃতন্ত্র?
অপু বিশ্বাস: আসলে বাসায় সব সময় জয়েরই প্রাধান্য থাকে। তা ছাড়া এবার যেহেতু এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল একসঙ্গে খেলেনি, তাই ও রকম ঝামেলা হয়নি। আমার বাসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছে সে। বাসায় গণতন্ত্র নেই, মাতৃতন্ত্রও নেই। এখানে চলে শুধু জয়তন্ত্র।
প্রশ্ন: জয় যদি একদিন ঘোষণা দেয়, ‘মা, আমি মেসির মতো হতে চাই’—আপনি কী বলবেন, ‘বাবা, আগে হোমওয়ার্ক শেষ করো?’
অপু বিশ্বাস: জয় সব সময়ই বলে, মেসির মতো হতে চাই। সে মেসিকে অনেক পছন্দ করে। তার এই কথা শুনে আমার মনে হয়, হয়তো পড়াশোনা অ্যাভয়েড করে খেলতে যেতে চাইছে। তখন আমি এই কথাটা বলি, তুমি মেসি অবশ্যই হবে, আগে পড়াশোনা শেষ করো।
প্রশ্ন: সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার একটি পোস্ট দেওয়ার পর মানুষ পোস্টের চেয়ে ‘ইঙ্গিত’ খুঁজতে বেশি ব্যস্ত থাকে। এটা কি আপনার কাছে বিনোদন লাগে?
অপু বিশ্বাস: আমার কাছে পুরো সোশ্যাল মিডিয়াই বিনোদনের জায়গা মনে হয়। সেটা আমার ভুল ধরলেও, আমাকে ভালো বললেও।
.প্রশ্ন: যদি ফেসবুক স্ট্যাটাসেরও সেন্সর বোর্ড থাকত, আপনার কতগুলো পোস্ট আটকে যেত?
অপু বিশ্বাস: আমার কোনো পোস্ট আটকাত না। কারণ, যেহেতু অভিনয়ে দুই দশকের কাছাকাছির মতো অভিজ্ঞতা আছে। এবং ফেসবুক বুঝতে শেখার পর থেকেও আসলে পোস্ট সেন্সর করে দেওয়ার চেষ্টাই করি।
প্রশ্ন: আপনার জীবন নিয়ে যাঁরা সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেন, তাঁদের সঙ্গে একদিন আড্ডা দিলে প্রথম প্রশ্নটা কী করতেন?
অপু বিশ্বাস: আপনাদের নিজের খেয়ে এত পরিশ্রম করে আমাকে ফলো করেন, টাইমটা পান কোত্থেকে! আমি তো নিজেকে দেখার টাইমই পাই না, সেখানে আমার সবকিছু এত পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে কীভাবে দেখেন? আমি এই কৌশলটা জানতে চাই!
প্রশ্ন: আপনি কি কখনো কোনো গুজব পড়ে নিজেই হেসে ফেলেছেন?
অপু বিশ্বাস: হাসি যেমন পেয়েছে, তেমনি ভীষণ অবাকও হয়েছি। ইদানীং এআই দিয়ে যখন অনেক কথা, ছবি ও ভিডিও বানিয়ে দেয় কেউ, সে বিষয়টা দেখে অনেক ইন্টারেস্টিং লাগে। লাইক, ছোটবেলায় কার্টুন দেখতে যেমন মজা পেতাম, এসব দেখে নিজেকে ওই জায়গায় দাঁড় করাই, ভালো লাগে।
.প্রশ্ন: ধরুন, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনি আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়ে গেছেন। প্রথমে ডাক্তার দেখাবেন, নাকি জয়কে খবর দেবেন?
অপু বিশ্বাস: অবশ্যই জয়কে খবর দেব, তাহলে ওর দলটা ভারী হবে। তার প্রত্যাশা সব সময় থাকে, সে নিজে যেটা করে, মম (মা-কে মম ডাকে) যদি করে, তাহলে তো সোনায় সোহাগা!
প্রশ্ন: আপনার কাছে বেশি ভয়ংকর কোনটি—হরর সিনেমা, নাকি ইউটিউবের থাম্বনেইল?
অপু বিশ্বাস: ইউটিউবের থাম্বনেইল। কারণ, ইউটিউবের থাম্বনেইল একটা হয়, এরপর যখন ক্লিক করে ঢুকি, তখন দেখি অন্য জিনিস। অনেকটা অডিওর সঙ্গে ভিডিওর মিল নাই অবস্থা। হরর মুভিতে হয়তো তা-ও অনুমান করতে পারি, গল্পটা এখানে শেষ হতে পারে, কিন্তু ইউটিউবের থাম্বনেইলটা মোটেও অনুমান করা যায় না, বিশ্বাস তো অনেক পরের।
প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষ সিনেমার গল্পের চেয়ে নায়ক-নায়িকাদের চেয়ে বাস্তব জীবনের গল্প বেশি উপভোগ করে?
অপু বিশ্বাস: আসলে আমি মানুষের দোষ দেব না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমন একটা জায়গায় চলে গেছে, মানুষেরা এখন পেশাগত জীবন থেকে ব্যক্তিজীবনে আগ্রহ বেশি অনুভব করছে। কারণ, আমরাই তাদের বিনোদনের জায়গাটা সৃষ্টি করে দিচ্ছি।
.প্রশ্ন: ২০ বছর আগের অপু বিশ্বাস আর আজকের অপু বিশ্বাস মুখোমুখি বসলে, দুজনের মধ্যে কে বেশি অবাক হতো?
অপু বিশ্বাস: ২০ বছর আগের অপু বিশ্বাস বেশি অবাক হতো। কারণ, আজকের অপু আর আগের অপু একেবারে আকাশ ও পাতাল তফাত।
প্রশ্ন: যদি একদিন ফেসবুক, ইউটিউব আর সংবাদমাধ্যম ধর্মঘটে যায়, আপনার মনে হয় সবচেয়ে বেশি চিন্তায় পড়বে কারা?
অপু বিশ্বাস: যারা আমাকে নিয়ে বেশি চিন্তা করে, তারা। খাওয়াদাওয়া, স্বামী-সন্তানকে বাদ দিয়ে অপু বিশ্বাসকে নিয়ে চিন্তাটা কোথায় জানাবে! তাদের দমও আটকে যেতে পারে। ওয়াই-ফাইয়ের মতো। ওয়াই-ফাই না থাকলে যেমন ইদানীং অনেকের দম আটকে যায়, ওদেরও তা-ই হবে। তবে আমি অনেক হ্যাপি হব, কারণ আমার তো সময় নাই।
প্রশ্ন: আপনি যদি এক দিনের জন্য নিজের উইকিপিডিয়া পেজ সম্পাদনা করতে পারেন, প্রথমে কোন তথ্যটা বদলাবেন?
অপু বিশ্বাস: অবন্তী আমার নাম কখনোই ছিল না, এটা আমি কাউকে বোঝাতে পারি না। আমার নাম শুধুই অপু বিশ্বাস!






