জাতীয় বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। সংগঠনটির মতে, বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো ইতিবাচক হলেও শ্রমজীবী মানুষের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি।
আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা, বাজেট-২০২৬-২৭ এর পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথাগুলো জানানো হয়।
বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। বাজেটের পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন গবেষণা বিভাগের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম।
বিলস জানায়, শ্রমিক-ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় বর্তমান সরকারের এটি প্রথম বাজেট। তাই শ্রমিক, কৃষকসহ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল বেশি। তবে বাজেট প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, বিশেষ করে সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করা হয়নি। ফলে শ্রম খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গি বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বাজেটকে শ্রমিকবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ১৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাজেট প্রণয়নে শ্রমিক প্রতিনিধিদের মতামত নিশ্চিত করা; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ; ব্যাংক হিসাব খুলতে টিনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার; জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক শ্রমিকদের ডিজিটাল ডেটাবেস ও শ্রমিক কার্ড চালু; কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন; সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সব শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করা; নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো; শিল্পাঞ্চলে রেশন শপ, বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র ও নারী শ্রমিকদের জন্য ডরমিটরি নির্মাণ এবং বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন করে আবার চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ।
বিলসের মতে, বাজেট যদি কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারে, তবে সেটি প্রকৃত অর্থে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হবে না। এ জন্য শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন বিলসের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন শ্রমিক অধিকার অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম সমন্বয়কারী এ এ এম ফয়েজ হোসেন ও শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের প্রতিনিধি রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিলসের পরিচালক কোহিনুর মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে বিলস, জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতা, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।






