সবুজ, হলুদ আর কমলা রঙের চিহ্ন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আঁকাবাঁকা একটি পথ। পথটি খুব বেশি লম্বা নয়। তবে সহজও নয়। ছোট্ট চার চাকার একটি গাড়ি কখনো ডানে, কখনো বাঁয়ে ঘুরে সেই পথ ধরে ছুটে যাচ্ছে। সামান্য ভুল হলেই শেষ। বাড়বে সময়, হাতছাড়া হবে জয়। তাই গতি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নিয়ন্ত্রণও ঠিক ততটাই।
চট্টগ্রাম নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামসংলগ্ন জিমনেসিয়ামে আয়োজিত ‘গো-কার্ট’ টুর্নামেন্টে গিয়ে আজ শুক্রবার দুপুরে দেখা যায় এমন দৃশ্য। গো-কার্ট মূলত ছোট আকারের রেসিং কার। নির্ধারিত পথে সবচেয়ে কম সময়ে গাড়ি চালিয়ে শেষ করতে পারলেই মিলবে বিজয়।
টুর্নামেন্টটির আয়োজন করেছে দেশীয় প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জেন্ট্র। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে বৈদ্যুতিক গো-কার্ট। দ্বিতীয়বারের মতো শুক্রবার চট্টগ্রামে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এবার অংশ নিয়েছেন ৩২ জন প্রতিযোগী। তাঁদের মধ্যে ছয়জন এসেছেন ঢাকা থেকে।
জেন্ট্রর প্রতিষ্ঠাতা মো. মুক্তাদির সাজিদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বিশ্বের অনেক তরুণের মতো বাংলাদেশের তরুণেরাও ফর্মুলা ওয়ান বা আন্তর্জাতিক কার্টিংয়ে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু দেশে দীর্ঘদিন ধরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মতো অবকাঠামো কিংবা প্রশিক্ষণের সুযোগ ছিল না। দেশীয়ভাবে তৈরি এই ইলেকট্রিক গো-কার্ট সেই শূন্যতা কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারে। তাঁর দাবি, তাঁরাই দেশে প্রথম বৈদ্যুতিক গো কার্ট তৈরি করেছেন।
মো. মুক্তাদির সাজিদ বলেন, গো-কার্টটি পুরোপুরি বৈদ্যুতিক। এতে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে হয় না। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া যায়। শব্দ ও বায়ুদূষণও হয় না। ফলে এটি শুধু মোটরস্পোর্টসের নতুন অভিজ্ঞতাই নয়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিরও একটি উদাহরণ।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের বড় একটি অংশই তরুণ। তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক গো-কার্ট সেই সম্ভাবনারই একটি উদাহরণ। তরুণদের এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে। কারণ, নতুন প্রযুক্তি ও নতুন শিল্পের বিকাশ তাদের হাত ধরেই হবে।
মেয়র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বায়ুদূষণের এই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে হবে। এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।
অনুষ্ঠানের অতিথি দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, দেশের তরুণদের মাঠমুখী করতে নতুন নতুন ক্রীড়ার আয়োজন বাড়াতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে তাঁরা আরও ভালো করবেন। তরুণদের মোবাইলের পর্দা ছেড়ে খেলাধুলার মাঠে ফিরিয়ে আনতেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, চিটাগং উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবিদা মোস্তফা এবং র্যানকন এফসি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর শাহরিয়ার, ফর্মুলা রেসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।






