দেশে বর্তমানে কতজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন কর্মরত, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই। তবে ২০০০ সালের একটি হিসাব অনুযায়ী দেশে মসজিদের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫। সেই হিসাবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সংখ্যা ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ হতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ১২ হাজার ৮১০ জন এ ভাতার আওতায় আছেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের সময় চালু হওয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (অষ্টম পর্যায়)’ প্রকল্প বর্তমানে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধনের সময় কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে।
একই প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ বর্তমানে ষষ্ঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে খ্রিষ্টধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীন এ ধরনের কোনো প্রকল্প না থাকায় কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪২টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং ১৮৬টির কাজ চলমান। বাকি মসজিদগুলোর কাজ ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার ৬০০ জন কম হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন।
সংরক্ষিত আসনের সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, নারী ও যুবসমাজের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। ধর্মীয় নেতা, ইমাম, খতিব ও শিক্ষকদের মাধ্যমে সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও উগ্রবাদবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। নতুন প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাজেট বরাদ্দের ওপর নির্ভর করবে।
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সারা দেশে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং পুরোহিত-সেবাইত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকদের মাসিক সম্মানী বর্তমানে ৬ হাজার টাকা। ডিপিপি অনুযায়ী ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করা হবে।
অন্যদিকে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, অ-তালিকাভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি তালিকাভুক্ত করা, আদালতে মামলা এবং ওয়াক্ফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর ৬৪ ধারার আওতায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে এসব সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব। গত এক বছরে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াক্ফ সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে গত এক বছরে সরকারি তালিকাভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবোত্তর সম্পত্তির কতটুকু বাস্তবে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেননি ধর্মমন্ত্রী।






