জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনায় করা একটি মামলায় বগুড়া সদর উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং চিকিৎসক নেতা সামির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় পারিবারিক অনুষ্ঠানে গেলে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে গত বছরের অক্টোবরে করা একটি মামলায় সামির হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সামির হোসেন বগুড়া মহানগরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি বগুড়া সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁকে বাগেরহাট সরকারি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) প্রশিক্ষক পদে বদলি করা হয়। স্থানীয়ভাবে তিনি দরিদ্র রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে পরিচিত।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে শেরপুর সদরের মকটেল রেস্তোরাঁয় একজন চিকিৎসকের জন্মদিন উপলক্ষে পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নিতে বগুড়া থেকে যান সামির হোসেন। খবর পেয়ে বিএনপির কিছু সমর্থক রেস্তোরাঁটি ঘিরে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় নিয়ে যায়। পরে বগুড়া সদর থানায় হওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাতেই সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর ককটেল হামলার অভিযোগে গত বছরের ২২ অক্টোবর সদর থানায় একটি মামলা করা হয়। তদন্তাধীন ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সামির হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।






