সরকার জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে চায়। এই সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের কী জ্ঞান দরকার—সে বিষয়ে গবেষণা হওয়াটাই মৌলিক বিষয়। প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সরকার ঘোষণা করবে এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে গবেষণা হবে। বাংলাদেশের প্রয়োজন নেই, এমন কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণায় সরকারের অর্থায়ন করা উচিত নয়। কথাগুলো বলেছেন জাতীয় অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে স্বাস্থ্যনীতি ও স্বাস্থ্যপদ্ধতি নিয়ে গবেষণাবিষয়ক এক সংলাপের শেষ ও চতুর্থ অধিবেশনের সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন অধ্যাপক এ কে আজাদ খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট এবং নাগরিক সংগঠন অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস বাংলাদেশ এই সংলাপের আয়োজন করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এ আয়োজনে সহায়তা করে। সংলাপের বিভিন্ন অধিবেশনে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ১০টির বেশি গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এস এম জিয়াউদ্দীন হায়দার বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্বের শীর্ষ পর্যায়ে রেখেছে। সরকার স্বাস্থ্য গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রাইভেট সেক্টর বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক তেমন গড়ে ওঠেনি, এটা গড়ে ওঠা দরকার।’
সংলাপের তৃতীয় অধিবেশনের সঞ্চালক ও পিপিআরসির নির্বাহী পরিচালক হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য গবেষণা করার জন্য রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক সময় এসেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, গবেষণা ফলাফলকে নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা বা বাস্তবায়ন করা সরল বিষয় নয়। গবেষণাকে নীতি পর্যায়ে নেওয়া এবং তা বাস্তবায়ন করার জন্য একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুপারিশ করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ উপদেষ্টা।
বাংলাদেশে অন্য অনেক বিষয়ের মতো স্বাস্থ্য গবেষণার ক্ষেত্রেও নারী উপেক্ষিত থাকে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সায়েবা আক্তার। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ওষুধের ট্রায়াল হয় পুরুষের ওপর, কিন্তু সেই ওষুধ নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এটা নিয়ে জটিলতার বহু উদাহরণ আছে।
একই অধিবেশনে ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন লরা রিচেনবেস বলেন, গবেষণাকে নীতিতে রূপান্তর ও বাস্তবায়নের অনেক উপায় আছে এবং অনেক সফল উদাহরণও আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে যেন গবেষণা শেষ হয়ে না যায়। গবেষণাকে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক থাকা দরকার।
সংলাপের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, স্বাস্থ্য বাজেট সুষ্ঠুভাবে খরচ করতে হলে দ্রুত নতুন প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যয় সঠিকভাবে করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বিশেষভাবে প্রয়োজন বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
বিভিন্ন অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী শামস এল আরেফিন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক মো. এনামুল হক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শাহ ইমাম আলী রেজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক শফিউন এন শিমুল।






