‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে সিপিজে বলেছে, রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতি নিয়ে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন করায় এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নথি পর্যালোচনা করে সংগঠনটি বলেছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর পাশাপাশি মানহানি, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম রিমন এ মামলা করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এই মামলা করা হয়েছে। মামলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম প্রতিমন্ত্রী ও রিমনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।

এ মামলায় ১৮ জুন রেজানুর ইসলামকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২১ জুন জামিন পাওয়ার আগপর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা আসামি প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সারসহ দুই প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, ‘সরকারের একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর প্রকাশের জন্য রেজানুর ইসলামকে আটক এবং অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের অপর পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা স্পষ্টতই ভয় দেখানোর একটি অপচেষ্টা। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এসব অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে। সেই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সাইবার ও ফৌজদারি মানহানির আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর পক্ষ থেকে মামলা করার কোনো নির্দেশনা ছিল না। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিপিজে বগুড়ার পুলিশ সুপার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিবের কাছে ই-মেইল পাঠায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পায়নি তারা।

বিবৃতিতে সিপিজে আরও উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের ওপর শারীরিক হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা বেড়েছে। চলতি জুনের শুরুতে সিপিজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উচিত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করা।