গাজীপুরের শ্রীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অরাজকতা ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক হয়েছিলেন লোকমান হোসেন (৫৫)। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি এবং দলীয় কমিটিতে তাঁর নামের তালিকা দেখে তাঁকে আটক করা হয়।

তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব দাবি করেছেন লোকমান হোসেন তাদের দলের কর্মী। পরে তাঁরা তাঁকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

লোকমান হোসেন শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়া দক্ষিণখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল রোববার রাতে তাঁকে আটক করে শ্রীপুর থানা–পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে তাঁকে শ্রীপুর থানা থেকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল মোতালেব ও সদস্য সচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে সম্ভাব্য অরাজকতা ঠেকাতে গতকাল রাতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। লোকমান হোসেনের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি এবং দলীয় কমিটিতে তাঁর নামের তালিকা পুলিশের কাছে ছিল। তাই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।

ওসি শাহীনুর আলম জানান, আজ দুপুরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল মোতালেব ও সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদসহ বিএনপির নেতারা থানায় এসে লোকমানকে তাঁদের কর্মী দাবি করেন। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও ফেস্টুন দেখিয়েছেন। পরে যাচাই–বাছাই করে বিএনপির নেতাদের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জিম্মা–সংক্রান্ত কাগজে বিএনপির নেতারা স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘লোকমান হোসেন গণ–অভ্যুত্থানের পর আমাদের এমপি মহোদয়ের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। সংসদ নির্বাচনে তিনি আমাদের পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্র কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন। কে বা কারা তাঁর আগের ছবি দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে প্রশাসনকে ও আমাদের বিভ্রান্ত করেছেন। তিনি বিএনপির লোক। আগেও তিনি বিএনপি করতেন।’