গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে হত্যা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক বিএনপির এক সংসদ সদস্যের ছেলেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন দলের হুইপ রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, গাইবান্ধায় একটা স্কুলের কমিটিকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষকের ওপর আক্রমণ হয়েছে। এই ছেলেটা (শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী) বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আর ওখানেই ছাত্রদল, যুবদল নির্মমভাবে তাঁকে হত্যা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অথচ সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মামলা হয়েছে।

গাইবান্ধায় একটি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে গতকাল রোববার একটি বাজারে প্রকাশ্যে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেসুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

স্পিকারের উদ্দেশে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক খারাপ। আমরা অবিলম্বে এই খুনিদের গ্রেপ্তারের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। খুনিরা কোনো দলের নয়। খুনিরা খুনি, যে দলেরই হোক না কেন। তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সব সংবাদমাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক এমপিপুত্রকে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়ার খবরও এসেছে।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা পয়েন্ট অব অর্ডার নয়। পয়েন্ট অব অর্ডার হচ্ছে সংসদের চলমান কোনো বিষয়ের ওপর। এরপরও যদি মনে করেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে নোটিশ দেবেন।’

মাগরিবের বিরতির পর বিষয়টি আবারও সংসদে তোলেন জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শিবির নেতা হত্যা ও মুচলেকায় এমপিপুত্রের মুক্তির বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য ৬৮ বিধিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম (বুলবুল) নোটিশ দিয়েছেন। আমি তাতে সমর্থন করেছি। বিষয়টি আলোচনার জন্য আপনার সদয় বিবেচনা আশা করছি।’