২০২৫ সালে রেকর্ড ১ কোটি ৫০ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ দেশে ফিরেছেন, যাঁর সিংহভাগই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) এবং মূলত ৫টি দেশের নাগরিক। ইউএনএইচসিআর এ নিয়ে সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার কারণে আফগানিস্তান, সিরিয়া ও সুদানের মতো দেশগুলোয় এই প্রত্যাবর্তন এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘটছে। অনিচ্ছাকৃত প্রত্যাবর্তনের ঘটনাও ঘটছে।

.

যে কারও জন্য নিজ দেশে ফিরে যেতে পারাটা সব সময়ই সুন্দর। কিন্তু একই সঙ্গে এটি শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও আবেগের দিক থেকে খুবই ক্লান্তিকর। কারণ, সবকিছুই বদলে যায়। ৩৭ বছর বয়সী সিরীয় শরণার্থী হিয়াম আল-জাজিরাকে এভাবেই তাঁর নিজ দেশে ফিরতে পারার অনুভূতি বর্ণনা করেন।

এই নারী ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদের শাসনের পতনের পর সিরিয়ায় ফিরে যাওয়া ৩০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের একজন।

২০ জুন ছিল বিশ্ব শরণার্থী দিবস। এ উপলক্ষে আল-জাজিরা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত কত মানুষ নিজ দেশে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছেন এবং ফিরে যাওয়ার পর তারা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, তা তুলে ধরা হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের ( ইউএনএইচসিআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখনো অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৭০ জনে একজন।

সামগ্রিকভাবে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর এই সংখ্যা প্রায় মিসর বা ফিলিপাইনের মোট জনসংখ্যার সমান। বাস্তুচ্যুত এই মানুষদের মধ্যে রয়েছে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, ইউএনআরডব্লিউএর ম্যান্ডেটের অধীন ফিলিস্তিনি, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি (আইডিপি) এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন আছে—এমন অন্যান্য মানুষ।

গত ১০ বছরে এই প্রথম জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের (আইডিপি) নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার ফলে এই পরিবর্তন এসেছে।

বিশ্বে এখনো প্রায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছেন।

.

এদের মধ্যে—

# সংঘাত বা অন্যান্য সংকটের কারণে ৬ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ নিজ নিজ দেশের ভেতরেই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) অবস্থায় রয়েছেন।

# ২ কোটি ৮৫ লাখ শরণার্থী ইউএনএইচসিআর এর ম্যান্ডেটের অধীনে বাস্তুচ্যুত।

# ৯০ লাখ মানুষ আশ্রয়প্রার্থী, যারা তাদের নিজ দেশে নির্যাতন বা ক্ষতির ভয়ে অন্য দেশে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছেন এবং সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

# ৭২ লাখ মানুষ আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয় অবস্থায় রয়েছেন।

# ৬০ লাখ মানুষ ইউএনআরডব্লিউএর ম্যান্ডেটের অধীনে ফিলিস্তিনি শরণার্থী।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৪ কোটি ১৬ লাখ শরণার্থী তাঁদের নিজ দেশের বাইরে বসবাস করছিলেন। এই শরণার্থীদের মধ্যে প্রতি দুজনে প্রায় একজন এসেছেন মাত্র চারটি দেশ বা অঞ্চল থেকে। সেগুলো হলো ভেনেজুয়েলা, ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও সিরিয়া।

একই সময়ে তুলনামূলকভাবে অল্প কয়েকটি দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় অংশের দায়ভার বহন করেছে। জর্ডান, কলম্বিয়া, জার্মানি ও তুরস্ক বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছে।

২০২৫ সালে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। জাতিসংঘের রেকর্ড অনুযায়ী, এটা এক বছরে সবচেয়ে বেশি মানুষের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন।

যদিও এই প্রত্যাবর্তনকারীরা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ১২ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

.
২০২৫ সালে শরণার্থী প্রত্যাবর্তনে রেকর্ড হলেও মূলত তাঁরা হাতে গোনা কয়েকটি দেশের নাগরিক। যে ৪৩ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন, তাঁদের প্রায় ৯৮ শতাংশই মাত্র পাঁচটি দেশের।
.

এর মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির (আইডিপি) সংখ্যাই বেশি। ২০২৫ সালে ১ কোটি ৩ লাখ আইডিপি নিজেদের দেশের ভেতরে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। আরও প্রায় ৪৩ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন—যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

ইউএনএইচসিআর তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, অনেক শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তির (আইডিপি) কাছে নিজ দেশে বা এলাকায় ফিরে গিয়ে জীবন পুনর্গঠনের ইচ্ছা সাধারণ এক অনুভূতি।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের পরিস্থিতি মোটেও অনুকূল নয়। অনেক মানুষ সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মধ্যেও ফিরে যাচ্ছেন। তাই ওইসব মানুষের জন্য নিজ দেশে ফিরে যাওয়া এখনো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

২০২৫ সালে শরণার্থী প্রত্যাবর্তনে রেকর্ড হলেও মূলত তাঁরা হাতে গোনা কয়েকটি দেশের নাগরিক। যে ৪৩ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন, তাঁদের প্রায় ৯৮ শতাংশই মাত্র পাঁচটি দেশের।

.

দেশগুলো হলো—

• আফগানিস্তান (১৯ লাখ ৫০ হাজার)

• সিরিয়া (১৩ লাখ ৪০ হাজার)

• সুদান (৬ লাখ ৫১ হাজার ৫০০)

• দক্ষিণ সুদান (১ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০)

• ইউক্রেন (১ লাখ ৩৯ হাজার ৩০০)

আফগানিস্তান

২০২৫ সালে প্রায় ২০ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরে গেছেন, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এবং আকস্মিক গণ-জনগোষ্ঠী চলাচলের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরান ও পাকিস্তান সরকারের কঠোর নীতির কারণে দশকের পর দশক ধরে এই দুটি দেশে বসবাস করা বহু আফগান নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগের হাতেই ফিরে যাওয়া ছাড়া খুব সীমিত বা কোনো বাস্তব বিকল্প ছিল না।

৩০ বছর বয়সী মরিয়ম এমনই একজন শরণার্থী, যিনি ইরানে ছয় বছর বসবাসের পর তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে আফগানিস্তানে ফিরে গেছেন। তাঁর স্বামী মারা গেছেন।

মরিয়ম বলেন, ‘এখন আমার কিছুই নেই-না কোনো চাকরি, না কোনো বাড়ি। কারও কাছে যে যাব, তেমন কেউও নেই।’

মরিয়ম কিডনি রোগে ভুগছেন। এই মায়ের কাছে নিজের অসুস্থতা থেকেও বড় কষ্ট হলো ১৫ বছর বয়সী ছেলে সাদেককে স্কুলে পাঠাতে না পারা। সাদেক স্কুলে না গিয়ে কাজ খুঁজছে। সে লেখাপড়া করতে চায়। কিন্তু মায়ের চিন্তা কমানোর জন্য সে তার ইচ্ছাগুলো লুকিয়ে রাখে। ছেলের সেই না বলা স্বপ্ন মরিয়মের কাছে যেকোনো অসুস্থতার চেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক।

.
জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের এই হার ও গতি আফগানিস্তানকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
.

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) কয়েকজন আফগান প্রত্যাবর্তনকারীর সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ফিরে আসা মানুষের মধ্যে ৮০ শতাংশ পরিবার দিনে অন্তত একবেলার খাবার বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি পরিবার জানিয়েছে, তারা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বছরও আফগান প্রত্যাবর্তনকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে। এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এই সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ আংশিকভাবে কাজ করেছে।

জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের এই হার ও গতি আফগানিস্তানকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। দেশটি আগে থেকেই দারিদ্র্য, সীমিত অবকাঠামো এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার সংকটে রয়েছে।

২০২৪ সালে আফগান শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৮ লাখ। গত বছর তা কমে ৩৭ লাখে নেমে আসে। কারণ, প্রায় ২৯ লাখ আফগান নিজ দেশে ফিরে গেছেন, যাঁদের ১৯ লাখ ছিলেন নিবন্ধিত শরণার্থী।

এসব প্রত্যাবর্তনের সবই যে স্বেচ্ছায় ছিল, তা কিন্তু নয়। বরং আশ্রয়দাতা দেশগুলোর নীতিমালার সংশোধনের কারণে তাঁদের ফিরে যেতে হয়েছে।

.

সিরিয়া

২০২৫ সালে প্রায় ১৩ লাখ সিরীয় বিদেশ থেকে নিজ দেশে ফিরে গেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এ ছাড়া আরও ২০ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত সিরীয় তাঁদের বাড়িতে ফিরে গেছেন। ফলে বৈশ্বিকভাবে সিরীয় শরণার্থীর সংখ্যা ৬০ লাখ থেকে কমে ৪৯ লাখে নেমে এসেছে।

সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের অভিযানের ফলে ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ক্ষমতাচ্যুত হন বাশার আল-আসাদ। সিরিয়ায় আল-আসাদ বংশের ৫৪ বছরের শাসনের অবসান হয়।

সিরিয়ায় প্রায় ১৪ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলেছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী সংকটের জন্ম দেয়। ২০২১ সালে যুদ্ধের তীব্রতায় প্রায় ৬৮ লাখ সিরীয় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়—যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিল।

এই শরণার্থীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি, প্রায় ৩৭ লাখ ৪০ হাজার সিরীয় প্রতিবেশী তুরস্কে আশ্রয় নেয়। এ ছাড়া আরও ৮ লাখ ৪০ হাজার জন লেবাননে এবং ৬ লাখ ৭২ হাজার জন জর্ডানে আশ্রয় নেয়।

হিয়াম আল-জাজিরাকে বলেন, তিনি তাঁর পরিবারের সঙ্গে এক দশকের বেশি সময় যে দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখান থেকে সিরিয়ায় ফিরে এসেছেন।

.
ইরান ও পাকিস্তান সরকারের কঠোর নীতির কারণে দশকের পর দশক ধরে এই দুটি দেশে বসবাস করা বহু আফগান নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগের হাতেই ফিরে যাওয়া ছাড়া খুব সীমিত বা কোনো বাস্তব বিকল্প ছিল না।
.

হিয়াম বলেন, ‘সে দেশে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় আমাদের ফিরে আসতে বাধ্য করেছে। আমরা সেখানে ১২ বছর ছিলাম এবং শরণার্থী হিসেবে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল।’

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ ৫৬ হাজার সিরীয় প্রতিবেশী তুরস্ক থেকে, ৪ লাখ ৬৫ হাজার লেবানন থেকে এবং ২ লাখ ৫৬ হাজার জর্ডান থেকে ফিরে এসেছেন।

প্রত্যাবর্তনকারীদের ১০ জনে মধ্যে ৭ জনের বেশি বলেছেন, সিরিয়ায় নিরাপত্তা এবং চলাচলের স্বাধীনতা উন্নত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য দেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা বাকি সিরীয় শরণার্থীদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশও বলেছেন, তাঁরা ভবিষ্যতে কোনো এক সময় নিজ দেশে ফিরে যেতে চান।

২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সিরীয় শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের সংখ্যা ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ তে পৌঁছেছে, মূলত লেবাননে পরিস্থিতির অবনতির কারণে এমনটা ঘটেছে।

.
‘প্রতিদিনই যুদ্ধের স্মৃতি, নিজ বাড়িঘরের স্মৃতি, হারানো জিনিসপত্রের কথা আমাদের মনে পড়ত। মনের ভেতরে এই শোক বছরের পর বছর আমাদের সঙ্গে থেকেছে। তিন বছর পর যখন আমরা ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিই, সে সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ ছিল না। বরং খুবই কঠিন পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে এটা করতে হয়েছে।’...
আনসাম রুস্তম, সুদানের অভ্যন্তরীণ শরণার্থী
.

সুদান

২০২৫ সালে প্রায় ৬ লাখ ৫১ হাজার শরণার্থী এবং ২৯ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি সুদানে নিজ বাড়িঘরে ফিরে গেছেন। বিদেশ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই প্রতিবেশী মিসর (৪ লাখ ৫ হাজার ৭০০ জন) এবং দক্ষিণ সুদান (২ লাখ ৮ হাজার ৭০০ জন) থেকে এসেছেন।

সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছুদিন পরই পরিবারের সঙ্গে রাজধানী খার্তুম ত্যাগ করেন আনসাম রুস্তম।

রুস্তম বলেন, ‘যুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর আমাদের জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। চারদিকে গোলাগুলির শব্দ, শিশুদের আতঙ্ক এবং মানুষের মনের ভেতর ঢুকে পড়া ভয়ের কারণে আমরা সুদানের অন্য কোনো একটি রাজ্যে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

বাড়িঘর ছাড়ার পর নিজেদের মনের অবস্থা বোঝাতে গিয়ে রুস্তম আরও বলেন, ‘প্রতিদিনই যুদ্ধের স্মৃতি, নিজ বাড়িঘরের স্মৃতি, হারানো জিনিসপত্রের কথা আমাদের মনে পড়ত। মনের ভেতরে এই শোক বছরের পর বছর আমাদের সঙ্গে থেকেছে। তিন বছর পর যখন আমরা ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিই, সে সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ ছিল না। বরং খুবই কঠিন পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে এটা করতে হয়েছে।’

ফিরে আসার পর রুস্তম এবং তাঁর সন্তানেরা ধীরে ধীরে নিজেদের নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন এবং মানসিকভাবেও নিজেদের পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন বলে জানান রুস্তম।

.

এ ছাড়া, ২০২৫ সালে ১ কোটি ৩ লাখেরও বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি (আইডিপি) নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। এর মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআরসি) তে ৩৬ লাখ, সুদানের ২৯ লাখ এবং সিরিয়ার ২০ লাখ প্রত্যাবর্তনকারী ছিল, যা মোট প্রত্যাবর্তনকারীদের ৮০ শতাংশেরও বেশি।

ইউক্রেনে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৩৭ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি (আইডিপি) ছিল। ওই বছর আরও প্রায় ৬ লাখ ৬৮ হাজার ইউক্রেনীয় নতুন করে দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হন। আর ৫ লাখ ৭৯ হাজার আইডিপি তাদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।

.এক বছরেই উদ্বাস্তু ৩০ লাখ