ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে মোহাম্মদ সালাহর অর্জনের শেষ নেই। কিন্তু দেশের জার্সিতে তাঁকে ঘিরে দুটি বড় আক্ষেপ ছিল মিসরীয়দের। একটি এখনও রয়ে গেছে—তাঁর নেতৃত্বে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জেতা হয়নি। অন্য আক্ষেপটি আজ মুছে গেল। সালাহর হাত ধরেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের দেখা পেল মিসর।

ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে ‘জি’ গ্রুপের খেলায় মিসর ৩-১ গোলে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে। একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন সালাহ ও মোস্তাফা জিকো। তবে ৮৩ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগপর্যন্ত মিসরের আক্রমণের প্রাণভোমরা ছিলেন সালাহ-ই। সর্বোচ্চ পাঁচটি শট, প্রতিপক্ষের বক্সে সর্বোচ্চ ১৩ বার বল স্পর্শ এবং সর্বোচ্চ পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেন ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

এবারের আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলেছিল মিসর। তিন আসরে সাত ম্যাচ এবং এবার গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জিততে পারেনি দলটি। ৯২ বছর ধরে চলা অপেক্ষার পর অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের হাসি হাসল মিসর। আক্ষেপ ঘুচল নবম চেষ্টায়।

তবে শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না মিসরের জন্য। ম্যাচের ১৫ মিনিটে টিম পেইনের কর্নার থেকে ফিন সারম্যানের হেডে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। পিছিয়ে পড়ার পরও আক্রমণ থামায়নি মিসর। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইমাম আশুর ও সালাহ সুযোগ পেলেও সমতায় ফিরতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৮ মিনিটে মোহাম্মদ হানির ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান মোস্তাফা জিকো। এই গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিসর। ৯ মিনিট পরই দলকে এগিয়ে দেন সালাহ। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে জিকোর সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। বিশ্বকাপে এটি ছিল মিসরের হয়ে সালাহর তৃতীয় গোল। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশের ইতিহাসে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন। এর আগে আবদেল ফাওজির ছিল দুটি গোল।

৮২ মিনিটে সালাহর কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে মিসরের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন বদলি হিসেবে নামা ত্রেজেগে। যোগ করা সময়ে জিজো চতুর্থ গোলের দারুণ সুযোগ নষ্ট করলেও তাতে মিসরের উৎসবে ভাটা পড়েনি।

প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা মিসর দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করা নিউজিল্যান্ড দুই ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে গ্রুপের তলানিতে। বিশ্বকাপের প্রথম জয়ের সঙ্গে নকআউট পর্বে ওঠার পথও অনেকটাই পরিষ্কার করে ফেলেছে সালাহর মিসর।