বন্ধুর সঙ্গে ফেনী থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়েছিলেন এক তরুণী (২১)। ফেনীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতেন তিনি। বেড়াতে যাওয়ার পথে মিরসরাই উপজেলার সুফিয়া রোড এলাকায় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন বলে দাবি করেন ওই তরুণীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে বেড়াতে যাওয়া তরুণেরা। মোটরসাইকেলে থাকা ওই তরুণী রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গীরা। তবে তরুণীর পরিবারের দাবি, এটি দুর্ঘটনা নয়। ওই তরুণী ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় মিরসরাই থানায় মামলা করেছে তরুণীর পরিবার।

পরিবারের দাবি, ধর্ষণ ও হত্যার পর ঘটনাটি চাপা দিতে দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয়েছে। মামলায় মো. তানভীর (২৭) ও আশরাফ উদ্দিন (২৫) নামের দুজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বাড়ি কুমিল্লা ও ফেনী জেলায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে ৭ জুন বেলা দেড়টার দিকে। সেদিন সন্ধ্যায় ওই তরুণীর দুর্ঘটনা খবর পায় পরিবার। তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার খবর পেয়ে স্বজনেরা সেখানে ছুটে আসেন। তবে তাঁরা পৌঁছানোর আগেই তরুণীর মৃত্যু হয়। সুরতহালের সময় ধর্ষণের চিহ্ন দেখতে পেয়ে ৯ জুন মিরসরাই থানায় মামলা করেন তরুণীর বাবা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৭ জুন দুপুরে ওই তরুণীকে ফেনী থেকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যান মো. তানভীর নামের এক যুবক। পরে বিকেল ৪টার দিকে মিরসরাই এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তরুণীকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তরুণীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতালে মরদেহ দেখার পর তাদের মনে হয়েছে, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের দাবি, তরুণীর শরীরের আঘাতের ধরন সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এ ছাড়া ধর্ষণের বিভিন্ন চিহ্ন দেখা গেছে। তাঁর পরনের পোশাকও পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মিরসরাই থানায় মামলা করেছেন তরুণীর বাবা।

নিহত তরুণীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে মো. তানভীর ও তার সহযোগীরা নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে। মিরসরাইয়ে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর সে অচেতন ছিল। ধর্ষণের ঘটনাটি আড়াল করতে দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়েছে আসামিরা। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

জানতে চাইলে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

[এ ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধিতে মামলা করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করা যায় না। এ কারণে এই প্রতিবেদনে তরুণীর নাম, ছবি ও তাঁর পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।]