মাঠের পাশে যখন নীল রঙের প্লাস্টিকের আইসবক্সগুলো এসে দাঁড়ায়, খেলাটা আচমকা থমকে যায়। রেফারি বাঁশি বাজান। টেলিভিশনের পর্দা থেকে খেলা চলে যায় বিজ্ঞাপনের আলো ঝলমলে দুনিয়ায়। ফিফা একে বলছে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’।

আমেরিকার তীব্র গরমে খেলোয়াড়দের একটু স্বস্তি দেওয়ার আধুনিক দাওয়াই। কিন্তু মাঠের এক কোণে, ট্র্যাকস্যুট পরে উবু হয়ে বসে থাকা ৭০ বছর বয়সী এক প্রবীণের চোখে এই বিরতি যেন ফুটবলের পবিত্র সংস্কৃতির ওপর করপোরেট কুঠারাঘাত।

তিনি মার্সেলো বিয়েলসা। ফুটবলের এক নিঃসঙ্গ দার্শনিক ও সাধক। অকপট কথা বলতে জীবনে কখনো দুবার ভাবেননি। অপ্রিয় সত্যি বলতেও। বিশ্বকাপে ফিফার চালু করা ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা হচ্ছে চারপাশে। সেই সমালোচকদের তালিকায় বিয়েলসার নামটা যে যোগ হতে যাচ্ছে, এ নিয়ে খুব একটা সন্দেহ আসলে ছিল না। হলোও তাই।

‘এল লোকো’ হিসেবে খ্যাত উরুগুয়ের এই আর্জেন্টাইন কোচ হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে  রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন ফিফাকে। তাঁর মতে, ম্যাচের দুই অর্ধে যোগ হওয়া এই বিরতি ফুটবলে নতুন কিছুই যোগ করছে না, বরং এই খেলার আসল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধ্বংস করছে।

.

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর আয়োজক শহরগুলোর তীব্র গরমের কথা বিবেচনা করে ম্যাচের প্রতি অর্ধে (মাঝামাঝি সময়ে) তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক চালু করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে এই বিরতি নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে।

.

সমালোচকদের বড় অংশ মনে করছে, এই বিরতির ফলে ম্যাচটি কার্যত চার কোয়ার্টারে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে কেবল সম্প্রচারকারী সংস্থাই আড়াই মিনিটের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারের সুবিধা পাচ্ছে। ফুটবলের চিরায়ত রূপ পছন্দ করেন, এমন মানুষেরা বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘দুবারের জায়গায় চারবারে খেলা হওয়াটা ফুটবলের সেই আদি রূপকে বদলে দিচ্ছে, যা সাংস্কৃতিকভাবে তৈরি হয়েছিল। সংস্কৃতির এই পরিবর্তন ফুটবলে নতুন কিছু যোগ করছে না, উল্টো অনেক কিছু কেড়ে নিচ্ছে।’

.এক ম্যাচ আগেই কেন বিদায় নিশ্চিত হচ্ছে দলগুলোর.

বিয়েলসা এর চেয়ে বড় তাৎপর্যের কথাও বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের আগে ফুটবলের একটা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল, এখন অন্য রকম হয়ে গেছে। মানুষ ফুটবলের সেই পুরোনো বৈশিষ্ট্যের প্রেমে পড়েই খেলাটাকে ভালোবেসেছিল।’

মনে হতে পারে, তাহলে কি বিয়েলসা পরিবর্তনের বিপক্ষে? মোটেও না। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে বিয়েলসা উদাহরণ টেনেছেন ভিএআর প্রযুক্তির, ‘অবশ্যই আমরা ভিএআরের মতো প্রযুক্তিকে স্বাগত জানাই, এটার মূল্যায়ন করি। প্রযুক্তি আমাদের আরও বেশি সুযোগ তৈরি করে দেয়। কিন্তু এই বিরতিগুলোর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে। আমি এখানে যে উপসংহার টানছি, তা কেবল আমার একার কথা নয়। চারপাশে যা শুনছি, আমার কথাতেও সেটার প্রতিফলন পাবেন।’

.যেখানে ম্যাচ, সেখানেই ইনফান্তিনো, কীভাবে পারছেন