বাড়ির সদর দরজা খুলে যদি দেখেন পুরো দরজা আগলে ঘুমিয়ে আছে বিশাল আকারের একটি কুমির, কী করবেন। নিশ্চয়ই দুঃস্বপ্নেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাইবেন না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় এক ব্যক্তি বাস্তবে এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে সাউথ ক্যারোলাইনার মঙ্কস কর্নার এলাকার চার্লসফোর্ট ওয়ের একটি বাড়িতে। বাড়ির মালিক সকালবেলা সদর দরজা খুলেই দেখেন, ‘অনাহূত’ এক অতিথি একদম পাপোশের ওপর মুখ রেখে শুয়ে আছে। যেন জরুরি কোনো কাজে এসেছে, কিন্তু ভদ্রতা করে রাতে দরজায় কড়া নাড়েনি, অপেক্ষা করতে করতে দরজার সামনেই ঘুমিয়ে পড়েছে।
দরজা খুলে বিশাল আকারের কুমিরটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে উঠলেও ওই ব্যক্তি নিজের মাথা ঠান্ডার রাখতে সক্ষম হন।
দ্রুত তিনি স্থানীয় বার্কলে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে খবর দেন এবং সাহায্য চান। শেরিফের কার্যালয় থেকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় একজন বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে অনাহূত অতিথিকে দেখে ওই কর্মকর্তার চোখও কপালে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্কলে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে রসিকতা করে বলা হয়, বাড়ির মালিক সদর দরজায় এমন এক অপ্রত্যাশিত অতিথিকে আবিষ্কার করেছেন, যার কাছে দরজায় কড়া নাড়ার নিয়মটি একেবারেই ঐচ্ছিক মনে হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল জানায়, তাদের সাধারণ গাইডলাইনে যে আকারের প্রাণী ধরার অনুমতি বা প্রস্তুতি থাকে, এই কুমির ছিল তার চেয়ে অনেক বড়। তার ওপর আইনকানুন বা মানুষের কোনো নির্দেশ মানার বিন্দুমাত্র ইচ্ছেও ওই কুমিরের ছিল না।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের (ডিএনআর) বিশেষজ্ঞদের খবর দেওয়া হয়। শেষমেশ সবার যৌথ প্রচেষ্টায় বেশ কসরত করে কুমিরটিকে অক্ষত অবস্থায় পাকড়াও করা সম্ভব হয়।
উদ্ধার শেষে কুমিরটিকে লোকালয় থেকে অনেক দূরে তার চেনা জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কাউন্টি কর্মকর্তারা মজা করে বলেন, ‘সবাই মিলে কুমিরটিকে নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসন করেছি। নতুন জায়গাটি মানুষের সদর দরজা, দরজার সামনে স্বাগত জানানো পাপোশ কিংবা ভবিষ্যতে বাড়িঘর হতে পারে এমন সবকিছু থেকে বহু দূরে।’






