সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার (ভিডিও) ঘটনায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির এ তথ্য জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা বিএনপি তাঁকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়। সেই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আজ রাতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাইদুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়। পাশাপাশি গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কমল আজ রাত আটটার দিকে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাইদুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতিপত্রে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল হাসান (ইমন) ও এম ইউ আহাম্মদ মোশাররফের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সাইদুল ইসলামকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো। আজ থেকে তাঁর সঙ্গে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য হবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাইদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি পরিকল্পিত। আজ বিকেলে তদন্ত হয়েছে। আমার পক্ষে বেশির ভাগ লোকজন কথা বলেছেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা চলে যাওয়ার পর আমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না।’






