যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অবশেষে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন তেহরান কোনো শুল্ক বা টোল ছাড়াই জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে; যার বিনিময়ে ওয়াশিংটন তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেবে, ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাও শুরু হতে যাচ্ছে।

এই চুক্তি যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, তাহলেও দেখা যাবে—সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ইরান এই যুদ্ধ থেকে একটি কৌশলগত বিজয়ী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথের একক ‘দ্বাররক্ষক’ হিসেবে তেহরানের অবস্থান এখন আরও শক্তিশালী। বিশ্বের অন্য দেশগুলোও এই ঘটনা খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করবে এবং নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য তারাও হয়তো এমন কোনো নৌপথ বা কৌশলগত অঞ্চল খোঁজার চেষ্টা করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও ঘোষণা করেছেন যে হরমুজ প্রণালি ‘চিরদিনের জন্য টোল-মুক্ত’ থাকবে, তবে এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। গত তিন মাসে ইরানি কর্তৃপক্ষ কিছু জাহাজের কাছ থেকে যাতায়াত বাবদ প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করেছে বলে জানা গেছে। এই ফি-এর পরিমাণ যদি এর চেয়ে অনেক কমও হয়—ধরা যাক প্রতি জাহাজের জন্য কয়েক লাখ ডলার, যা সুয়েজ বা পানামা খালের হারের কাছাকাছি—তবুও ইরান প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের একটি স্থায়ী তহবিল পেয়ে যাবে। এই বিপুল আর্থিক মুনাফাই তেহরানকে তার নতুন অবস্থান ধরে রাখতে সবচেয়ে বেশি প্ররোচিত করবে।

.

এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকায় তারা বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধাও পাচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিসহ বিশ্বের অনেক নেতাই ইতিমধ্যে তাঁদের দেশে তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইরান সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান এখন বিশ্বের যেকোনো দেশের সরকারের সঙ্গে নিজেদের মতো করে আলাদা চুক্তি করার অবস্থানে রয়েছে।

সময়ের ব্যবধানে এই নতুন প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে আরও রেহাই এবং অন্যান্য কূটনৈতিক সুবিধাও আদায় করে নিতে পারে। আর স্বাভাবিকভাবেই, এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার যেকোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হুমকি ইরানকে সামরিক হামলা কিংবা অর্থনৈতিক চাপ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

জাহাজের মালিক ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা ইরানকে টোল দেওয়ার বিষয়ে ক্ষুব্ধ হতে পারেন, তবে এই খরচ তাঁদের জন্য খুব একটা বড় বোঝা হবে না। একটি বড় তেল ট্যাংকারের জন্য ২০ লাখ ডলার টোল দেওয়ার অর্থ হলো প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য মাত্র ১ ডলার বাড়তি দেওয়া, যা একটি সাধারণ ক্রেডিট কার্ডের ট্রানজেকশন ফি-এর চেয়েও কম।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর ইরানের হুমকির কারণে এই পথে বিমা খরচ আকাশচুম্বী হয়েছিল; কোনো কোনো জাহাজের ক্ষেত্রে প্রতি যাত্রায় বিমা প্রিমিয়াম ৭৫ লাখ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। এখন ইরানকে টোল দেওয়ার মাধ্যমে যদি নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা মেলে, তবে বিমা খরচ অনেকটাই কমে আসবে, যা মূলত টোলের বাড়তি খরচকে পুষিয়ে দেবে। ২০০টিরও বেশি জাহাজ ও ট্যাংকারের মালিক গ্রিক শিপিং টাইকুন ইভানজ্যালোস মারিনাকিস বলেছেন যে এত ‘ঝামেলা পোড়ানোর’ চেয়ে টোল দেওয়াটাই তাঁর কাছে বেশি শ্রেয়।

.
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে এসেছেন; কারণ তাঁদের আশঙ্কা ছিল যে এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্ম দেবে।
এই যুদ্ধ শুরু করার মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত সেই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান করতে চেয়েছিলেন। তবে পরিহাসের বিষয় হলো—হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই অভাবনীয় সাফল্য বিশ্বে অন্য এক ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্ম দিতে যাচ্ছে; যেখানে প্রতিটি দেশই এখন এমন কোনো কৌশলগত চোকপয়েন্ট বা প্রবেশদ্বার খুঁজবে, যা দিয়ে রাতারাতি অর্থ ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করা যায়।
.

সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও হয়তো অনিচ্ছা সত্ত্বেও একই সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছাবে। তাদের সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে সবচেয়ে বেশি লোকসান হবে এই দুটি দেশেরই। কিন্তু একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে, যাতে তারা পূর্ণ গতিতে লাভজনক তেল রপ্তানি আবার শুরু করতে পারে।

উপসাগরীয় এই দেশগুলো ইরানের টোল আদায়ের বিষয়টিকে একটি ‘সাময়িক অনিষ্ট’ হিসেবে মেনে নিতে পারে; কারণ এটি তাদের হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে নতুন পাইপলাইন তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেবে, যে প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্তত এক দশক লেগে যেতে পারে। কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন যে এই ‘সাময়িক’ ফি বা টোলের বিষয়টি ‘আলোচনা সাপেক্ষ’।

ট্রাম্প অবশ্য জেদ ধরে আছেন যে ইরান বা তার প্রতিবেশী ওমান—কেউই এই জলপথ শাসন করতে পারবে না। কিন্তু গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই গায়ের জোরে এই প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে পারে না।

মে মাসের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন এমন চেষ্টা করেছিল, তখন ইরান অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে তার পাল্টা জবাব দেয়। এর ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প সেই অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হন। ঠিক একই দিনে তেহরান ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামের একটি সরকারি সংস্থা চালু করে, যার কাজ এই জলপথের ট্রাফিক বা জাহাজ চলাচল তদারকি করা। এরপর থেকে ইরান সেখানে নিজের নিয়ন্ত্রণ দিন দিন আরও সুসংহত করেছে।

সস্তা ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ভর করেই ইরান এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে; আর দেশটির এই সক্ষমতাকে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারবে না। ইরানে সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসির) যখনই চাইবে তখনই এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে ফেলার সক্ষমতা ধরে রাখবে।

.

এই পথ খোলা রাখার বিনিময়ে ইরান নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিপূরণ দাবি করবে। তারা যদি সরাসরি জাহাজের মালিকদের কাছ থেকে টোল আদায় নাও করে, তবে পরোক্ষভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মাধ্যমে সেই উশুল তুলে নেবে। দুই পথেরই যেকোনো একটিতে নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার জন্য তেহরান পুরস্কৃত হবে। আর নিরাপদ যাতায়াত যদি ইরানের সম্মতির ওপরই নির্ভর করে, তবে প্রকারান্তরে ইরানই এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখল।

এই জটিল সমস্যাটি অনুধাবন করতে পেরে ট্রাম্প বিশ্বের অন্যান্য নেতাদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন, যার অংশ হিসেবে গত মে মাসে বেইজিংয়ে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। কিন্তু ট্রাম্পকে এই সংকট থেকে উদ্ধার করার পেছনে সি চিনপিংয়ের নিজের কোনো স্বার্থ নেই।

ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা হিসেবে চীন হয়তো অন্য দেশগুলোর তুলনায় নিজেদের জাহাজের জন্য বিশেষ কোনো সুবিধা বা ছাড় আদায় করে নেবে। তা ছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘ মেয়াদে চীনের জন্যই লাভজনক হতে পারে; কারণ এটি চীনের আধিপত্য থাকা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির (এনার্জি টেকনোলজি) বৈশ্বিক চাহিদা আরও বাড়িয়ে দেবে। গত মার্চ মাসেই চীনের তৈরি সোলার প্যানেল এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) রপ্তানি আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে রেকর্ড ছুঁয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যদি স্থায়ীভাবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) হামলার ঝুঁকিতে থাকে, তবে বিশ্বের দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে আরও বেশি বাধ্য হবে। এর ফলে চীন থেকে তৈরি সোলার প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং ব্যাটারির আমদানি বহুগুণ বেড়ে যাবে। তবে তার মানে দাঁড়াবে—বিশ্ব এক ঝুঁকিপূর্ণ পরনির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে অন্য একটি নতুন পরনির্ভরশীলতার ফাঁদে পা দেবে।

গত বছর বিরল খনিজ পদার্থ (রেয়ার-আর্থ মিনারেল) রপ্তানির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা বিশ্বকে কৌশলগত নৌপথ ও বাণিজ্যের এই ‘চোকপয়েন্ট’ বা প্রতিবন্ধকতার ক্ষমতা সম্পর্কে আরেকটি শিক্ষা দিয়েছিল। চীনের সেই চালের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছিল; যার ফলে ট্রাম্প বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিলের পথ বেছে নেন এবং উন্নত কম্পিউটার চিপ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ সহজ করেন। এবার ইরান দেখাল যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকেও পিছু হটতে বাধ্য করা যায়। কৌশলগত চোকপয়েন্টগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অন্য দেশগুলোর নজরও নিশ্চয়ই এই ঘটনার দিকে রয়েছে।

.

ইতিহাসের এক দীর্ঘ সময়জুড়ে ভৌগোলিক চোকপয়েন্ট বা প্রবেশদ্বারগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ফায়দা নেওয়ার এই প্রবণতা বেশ স্বাভাবিক ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধে স্পার্টা এথেন্সের ‘হেলেস্পন্ট’ (যা বর্তমানে দার্দানেলিস নামে পরিচিত) যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়ে তাদের পরাজিত করেছিল; কারণ শস্য আমদানির জন্য এথেন্স এই পথের ওপরই নির্ভরশীল ছিল।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইতিহাসের প্রথম বৈদেশিক যুদ্ধটি লড়েছিল ত্রিপোলির অটোমান রাজপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে, যারা ভূমধ্যসাগরে মার্কিন নাবিকদের নিরাপদ যাতায়াতের বিনিময়ে কর বা নজরানা দাবি করেছিল। একইভাবে ডেনমার্ক তাদের সমুদ্রসীমায় দীর্ঘ ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল (যা ‘সাউন্ড ডিউজ’ নামে পরিচিত) আদায় করেছিল, যা ছিল দেশটির সরকারের মোট রাজস্বের দুই-তৃতীয়াংশ। পরবর্তীতে ১৮৫৭ সালের কোপেনহেগেন কনভেনশনের মাধ্যমে তারা এই টোল প্রথা বিলুপ্ত করতে সম্মত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বে মুক্ত জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা মূলত টিকে ছিল কারণ যুক্তরাষ্ট্র এর নিরাপত্তা গ্যারান্টি দিয়েছিল। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সেই দীর্ঘদিনের চেনা কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

সম্প্রতি এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমরা কি অনুধাবন করতে পারছি যে পূর্ব এশিয়ার ৭০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা এবং ৭০ শতাংশ বাণিজ্য সম্পন্ন হয় ইন্দোনেশিয়ার প্রণালিগুলোর মাধ্যমে?’ যদিও ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তারা পরবর্তীতে মালাক্কা প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপের পরিকল্পনা অস্বীকার করেছেন (যে পথ দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবাহিত হয়)। কিন্তু এই ধরনের একটি ধারণা যে খোদ সরকারি পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে, তা-ই প্রমাণ করে যে মার্কিন শক্তির ওপর ভর করে গড়ে ওঠা মুক্ত ও উন্মুক্ত বিশ্ব বাণিজ্যের যুগটি এখন অন্য কোনো অচেনা রূপের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

.

এখন খুব সহজেই কল্পনা করা যায় যে—ইয়েমেনের হুথিরা আরব উপদ্বীপ ও হর্ন অব আফ্রিকার মধ্যবর্তী ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করছে; রাশিয়া সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে; কিংবা চীন তাইওয়ানের বন্দরে আসা জাহাজগুলোর কাছ থেকে কাস্টমস শুল্ক দাবি করছে। বাস্তবেও এই মাসেই বেইজিং তাইওয়ান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাদের মেরিটাইম এজেন্সির জাহাজ পাঠিয়েছে। এই ধরনের অভিযান ইতিহাসে প্রথম, যাকে চীনা কর্মকর্তারা ‘বিশেষ সামুদ্রিক ট্রাফিক আইন প্রয়োগ’ বলে অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা এক প্রজন্ম ধরে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে এসেছেন; কারণ তাঁদের আশঙ্কা ছিল যে এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্ম দেবে।

এই যুদ্ধ শুরু করার মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত সেই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান করতে চেয়েছিলেন। তবে পরিহাসের বিষয় হলো—হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই অভাবনীয় সাফল্য বিশ্বে অন্য এক ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্ম দিতে যাচ্ছে; যেখানে প্রতিটি দেশই এখন এমন কোনো কৌশলগত চোকপয়েন্ট বা প্রবেশদ্বার খুঁজবে, যা দিয়ে রাতারাতি অর্থ ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করা যায়।

  • এডওয়ার্ড ফিশম্যান আমেরিকান লেখক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক কূটনীতিক। ‘চোকপয়েন্টস: আমেরিকান পাওয়ার ইন দ্য এজ অব ইকোনমিক ওয়ারফেয়ার’-বইয়ের লেখক।

    নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ।