চট্টগ্রামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক দোকানি। ফেসবুক লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নামধারী তিন ব্যক্তি তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি বিষপান করছেন। গতকাল শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

ওই ব্যবসায়ীর নাম সুমন ঘোষ (৪৮)। তিনি নগরের কোতোয়ালি থানার বক্সিরহাট এলাকার বাসিন্দা। সেখানে মসলাজাতীয় পণ্যের একটি দোকান করেন তিনি। তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, সুমন ঘোষ বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।

ফেসবুক লাইভে এসে ওই দোকানি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি নামধারী তিন ব্যক্তি শমসের আলী, আইয়ুব আলী ও শাহাদাত আলী তাঁর কাছে দোকান ভাড়ার নামে চাঁদা দাবি করে আসছেন। ওই তিনজন পরস্পরের ভাই। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পাঁচ মাস জেল খাটানো হয়েছে। তিনি কারাগারে থাকার সময় তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে জোরপূর্বক দোকান ভাড়ার একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরও করানো হয়েছে।

দোকানটির প্রকৃত মালিক নূর নাহার বেগম নামের একজন নারী দাবি করে সুমন ঘোষ ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘আমি যখন বললাম, আপনাদের কেন এই চাঁদা দেব, ভাড়ার নামে। আমার তো জমিদার (মালিক) আছে, আমার জমিদারকে ভাড়া দেব। তখন তাঁরা বলে, এটা চাঁদা হিসাব করেই তুমি দিবা।’ ওই ব্যক্তিদের কারণে ‘মানসিক টেনশন’ থেকে আত্মহত্যা করছেন বলে ফেসবুক লাইভে জানান সুমন ঘোষ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক নুরুল আলম বলেন, শুক্রবার বক্সিরহাট এলাকার নিজ বাসায় ফেসবুক লাইভে এসে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সুমন ঘোষ। তাঁকে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানায়, সুমন ঘোষ যে দোকানটি করেন সেটির নাম ‘স্বপন ঘোষ অ্যান্ড সন্স’। দোকানটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সুমন ঘোষ যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ওই তিনজনই এলাকায় বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে সুমন ঘোষ স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০০৫ সালের ৫ ডিসেম্বর কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় তাঁকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। এদিকে সুমন ঘোষ ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টার পর আইয়ুব আলী গতকাল কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানায় পুলিশ।

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জায়েদ নাজমুন নূর গতকাল রাতে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপির নামে কেউ চাঁদা চেয়েছে এ রকম কোনো অভিযোগ কেউ আমাদের করেননি। চাঁদা চাওয়া হয়েছে, নাকি অন্য কিছু, পুলিশ তদন্ত করে বের করুক।’