গ্যালারিতে জাপানি দর্শকদের আবর্জনা পরিষ্কার করার দৃশ্যটা তো এবারই প্রথম নয়। প্রতিবারই ফুটবল বিশ্বকাপে দেখা যায় চিরচেনা এই চিত্র। গ্যালারির আসনগুলোর ফাঁকফোকর থেকে পলিথিন, চিপসের প্যাকেট কুড়িয়ে নিচ্ছেন নীল জার্সির ‘সামুরাই ব্লু’ সমর্থকেরা। ম্যাচের ফল যা–ই হোক, ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম একদম ঝকঝকে তকতকে করে তবেই তাঁরা মাঠ ছাড়েন।

ফুটবলপ্রেমীদের এই অসামান্য ভদ্রতাবোধ আর পরিচ্ছন্ন মানসিকতা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ ফিফা তো রীতিমতো প্রশংসায় ভাসিয়েছে। বিশ্বজুড়ে ধন্য ধন্য পড়ে গেছে।

কিন্তু মুদ্রার ওপিঠটা দেখতে চাইলে আপনাকে একটু টোকিওর দিকে তাকাতে হবে। মাঠের এই ‘ভদ্রলোকেরা’ যখন ঘরে ফেরেন, তখন তাদের রূপ নাকি একদম বদলে যায়! বিশ্বমঞ্চে যাঁরা ময়লা পরিষ্কারের চ্যাম্পিয়ন, ঘরের মাঠে তাঁরা নাকি একটা সুতাও নাড়েন না!

সম্প্রতি ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট তুমুল ভাইরাল হয়েছে। ভিউ ছাড়িয়েছে প্রায় ১৯ লাখ। সেই পোস্টে জাপানি পুরুষদের ঘরের ভেতরের আসল রূপটা ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে। ব্যঙ্গাত্মক এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যে সমর্থক স্টেডিয়ামে ময়লা পরিষ্কার করছিলেন, তিনি ঘরে ফিরে সোফায় আয়েশ করে পা তুলে বসে আছেন। পাশে কাপড়ের পাহাড় জমে আছে, আর তাঁর স্ত্রী বা মা একা একা রান্নাঘরে বাসন মাজছেন—সেদিকে তাঁর কোনো খেয়ালই নেই।

পোস্টের নিচে ক্যাপশনটা ছিল আরও মজার ও খোঁচা দেওয়া, ‘দয়া করে ঘরের কাজগুলোও একটু এভাবে করুন!’

গবেষণায়ও দেখা গেছে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ঘরের কাজে জাপানি পুরুষদের অবদান সবচেয়ে কম। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওএইসিডি) ২০২১ সালের এক পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে জাপানের ক্যাবিনেট অফিস জানিয়েছে, গেরস্তালির অমূল্যায়িত কাজ—যেমন বাজার করা, ঘর গোছানো বা যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের চেয়ে ৫.৫ গুণ বেশি সময় ব্যয় করেন।

তুলনা করতে চান? ইংল্যান্ড, ফ্রান্স বা যুক্তরাষ্ট্রে এই ব্যবধান অনেক কম। সেখানে নারীরা পুরুষদের চেয়ে যথাক্রমে ১.৮ গুণ, ১.৭ গুণ এবং ১.৬ গুণ বেশি সময় ঘরের কাজে দেন।

অনেকে অবশ্য মাঠে জাপানিদের এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার স্বভাবকে তাদের মহান সংস্কৃতির অংশ ভাবেন। আবার অনেকের মতে, এটা কিছুটা লোকদেখানো ‘পারফরম্যান্স’ও হতে পারে।

ভাইরাল হওয়া সেই পোস্টে মন্তব্যের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এক ভুক্তভোগী স্ত্রী যেমন লিখেছেন, ‘যেসব স্ত্রী ঘরের কাজ না করা স্বামীদের নিয়ে ভুগছেন, তাঁদের উচিত স্বামীদের ঘরেও সামুরাই ব্লুর জার্সি পরিয়ে রাখা!’