সকাল সাড়ে আটটা। মহাসড়কে বিকট শব্দে হকচকিয়ে যান আশপাশের মানুষ। দোকানপাট থেকে বের হয়ে তাঁরা দেখতে পান, মহাসড়কের ওপর দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই একটি ট্রাক। সেই ট্রাক থেকে ছিটকে পড়া শতাধিক সিলিন্ডার চারদিকে গড়াগড়ি খাচ্ছে। কাছেই সড়ক বিভাজকের ওপর পড়ে আছে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির থেঁতলে যাওয়া লাশ। আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় মিরসরাই উপজেলার নিজামপুর বাজার এলাকায় দেখা যায় এমন দৃশ্য।
সকাল ৯টায় সরেজমিনে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নিজামপুর বাজারে পদচারী–সেতুর নিচে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে কাত হয়ে আছে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি। স্থানীয় কিছু মানুষ মহাসড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার যাতে চুরি না হয়, সেই দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্ঘটনার কারণে ওই স্থানে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশের বিকল্প রাস্তায় ধীরগতিতে চলাচল করতে হয় চট্টগ্রামমুখী বিভিন্ন যানবাহনকে। এতে চট্টগ্রামমুখী লেনের নিজামপুর বাজার থেকে বড়তাকিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তায় তৈরি হয় যানজট। সকাল ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্যানচালক মো. সালাউদ্দিন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা দেয়। এরপর কাত হয়ে পড়ে। এতে ট্রাকে থাকা শত শত গ্যাস সিলিন্ডার রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর কিছু লোক গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আমরা কাউকে নিতে দিইনি। হাইওয়ে পুলিশকে দুর্ঘটনার বিষয়ে খবর দেওয়া হয়েছে।’
জানতে চাইলে কুমিরা হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট শামীম হোসেন সকাল ১০টার দিকে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘নিজামপুর বাজার এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক–দুর্ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। দুর্ঘটনাস্থলে আমাদের লোকজন গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। নিহত ব্যক্তি পথচারী বলে জানতে পেরেছি। তাঁর পরিচয় শনাক্ত করতে আমরা কাজ করছি।’ দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সহকারীর কোনো সন্ধান মেলেনি বলে জানান তিনি।






