কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা করেছেন ছাত্রদলের এক নেতা। আজ রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া চিফ জুডিশিয়াল আদালতে এক আইনজীবীর মাধ্যমে এই মামলার আবেদন করা হয়।
মামলার বাদী সোলাইমান চৌধুরী। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর বাড়ি গাজীপুর জেলায়। সোলাইমানের আইনজীবী ছিলেন কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবী আবদুল মজিদ।
আইনজীবী আবদুল মজিদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দুপুরে আদালতে মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়। মামলাটি আদালত আমলে নিয়েছেন। শুনানি হয়েছে। আদালতের পেশকারের মাধ্যমে পরে জেনেছি, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি শুনানির আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে।’
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একাধিক ভিডিওতে আমির হামজা ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিকৃত করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলায় কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে বিদ্রূপ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা স্পষ্টতই মানহানিকর।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আমির হামজার এসব বক্তব্য আরাফাত রহমান ও খালেদা জিয়ার সম্মান, সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। এর ফলে তাঁদের পরিবার, শুভানুধ্যায়ী ও কর্মী-সমর্থকদের সামাজিক অপমান ও মানসিক ক্ষতি হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল এলাকায় অবস্থানকালে বাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও দেখেন ও শোনেন। আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাব থেকে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার আবেদনে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৫০০/৫০১/৫০৬ অনুযায়ী অভিযোগ আমলে গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে সমন অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা জানানো হয়েছে।
মামলার বাদী সোলাইমান চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সচেতন নাগরিক হিসেবে আদালতে একটি মানহানির মামলা করেছি। আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সম্মান রেখে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা নয়। সমাজে শালীনতা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার স্বার্থেই আমি আইনানুগ পথ অবলম্বন করেছি।’
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার আবেদনের বিষয়টি জেনেছি। আমি বিকেলে আদালতেই ছিলাম। যতটুকু জানি, এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই। মানহানি হলে ওই পরিবারের কেউ মামলা করতে পারেন। তারেক রহমান সাহেব বা তাঁর স্ত্রী বা তাঁর মরহুম ভাইয়ের স্ত্রী মামলা করতে পারেন। তাঁরা তো করেননি। তারপরও আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনগতভাবেই সবকিছু দেখা হবে।’






