চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৪২ রানে হারিয়ে ২০২৬ বিপিএল শেষ করল ঢাকা ক্যাপিটালস। ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করা চট্টগ্রাম ১৯.৪ ওভারে ১২৮ রানে অলআউট হয়েছে। টানা দুই বলে আমের জামাল (২৬ বলে ৪২) ও মুকিদুল ইসলামকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামের ইনিংস মুড়িয়ে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশ দলের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ৩.৪ ওভারে ২০ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ।
১০ ম্যাচের তিনটিতে জয় পাওয়া ঢাকা ৬ পয়েন্ট নিয়ে ছয় দলের লিগে পঞ্চম হয়েছে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। চতুর্থ হারের দেখা পাওয়া চট্টগ্রাম রয়্যালস ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে। সমান ১২ পয়েন্ট রংপুর রাইডার্সেরও। পয়েন্ট ও জয়সংখ্যা সমান হলেও নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় তিনে থেকে এলিমিনেটরে খেলবে রংপুর।
সরাসরি প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে চট্টগ্রাম রয়্যালসের। তবে লিগ পর্বের শেষ বড় হারের পথেই আছে দলটি। ৭৭ করলেই কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করার সমীকরণে ব্যাট করতে নেমে ৫৪ রানে ৬ উইকেট হারায় দলটি। এরপর আমের জামালের ব্যাটে শঙ্কা দূর করে চট্টগ্রাম। ১৯ ওভারে ৮ উইকেটে ১২২ রান তুলেছে দলটি।
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১২ ওভারে ৫৪/৬
৭৭ রান করলেই সরাসরি প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলবে চট্টগ্রাম রয়্যালস। কিন্তু দলটি রান তাড়ায় ৫৪ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলেছে ৬ উইকেট। ১২তম ওভারে দলটি হারিয়েছে অধিনায়ক মেহেদী হাসানকে। তাঁকে ফিরিয়ে তৃতীয় উইকেট পেয়ে গেছেন ঢাকার পেসার তাসকিন আহমেদ।
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১০ ওভারে ৫১/৫
৯ ওভার পুরো হওয়ার আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। প্রথম তিন ওভারে ৩ উইকেট হারানো দলটি অষ্টম ও নবম ওভারে হারিয়ে পরের দুটি উইকেট। মোহাম্মদ নাঈম রানআউট হওয়ার পর তোফায়েল আহমেদ ফিরিয়েছেন হাসান নেওয়াজকে।
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ৪ ওভারে ২৩/৩
রান তাড়ায় প্রতি ওভারেই উইকেট হারাচ্ছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ১৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করা দলটি ইনিংসের প্রথম বলেই হারায় মোহাম্মদ হারিসকে। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেছেন তাসকিন আহমেদ।
দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে মাহমুদুল হাসানকে এলবিডব্লু করেন ইমাদ ওয়াসিম। চট্টগ্রামের স্কোর তখন ৭/২। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে স্কোরটাকে ১৯/৩ বানিয়ে দেন তাসকিন।
পুরো ২০ ওভারও টিকতে পারেনি ঢাকা ক্যাপিটালস। ১৯.৫ ওভারে অলআউট হয়েছে ১৭০ রানে। ইনিংসের শেষ ১২ বলে ৫ উইকেট হারিয়েছে ঢাকা। ১৬৭ থেকে ১৭০—এই ৩ রান তুলতেই শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে দলটি।
১৮তম ওভারের শেষ বলে আমের জামাল মোহাম্মদ মিঠুনকে ফিরিয়ে ধসের সূচনা করেন। পরের ওভারে শরীফুল ইসলাম ফেরান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও তোফায়েল আহমেদকে। আমের জামালের করা শেষ ওভারে ইমাদ ওয়াসিম রানআউট হওয়ার পর এলবিডব্লু হন মারুফ মৃধা।
ঢাকার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেছেন সাইফ হাসান।
জিতলে তো কথাই নেই, ৭৭ রান করলেই প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলা নিশ্চিত হবে চট্টগ্রাম রয়্যালসের।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ১৫ ওভারে ১৩৮/৪
৪৪ বলে ৭৩ রান করে ফিরলেন সাইফ হাসান। মুকিদুল ইসলামের বলে শরীফুল ইসলামের ক্যাচ হয়েছেন ৬টি ছক্কা মারা সাইফ। ১৪.২ ওভারে দলকে ১৩২ রানে রেখে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন মাস পর এই সংস্করণে ফিফটি পাওয়া সাইফ। স্কুপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ১৩ ওভারে ১১৬/৩
সাইফ হাসানের সঙ্গে ৯০ রানের জুটি গড়ার পর ফিরলেন জুবাইদ আকবরি। ৩০ বলে ২৯ রান করে তানভীর ইসলামের দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন আফগান ওপেনার।
পরের বলেই তানভীর ফিরিয়েছেন শামীম হোসেনকে। মেহেদী হাসানকে নিচু এক ক্যাচ দিয়েছেন শামীম।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ১০ ওভারে ৯৪/১
গত ৫ অক্টোবরে শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৬৪ রান করার পর কী যেন হয়েছিল সাইফ হাসানের। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান এরপর স্বীকৃত টি–টোয়েন্টিতে ১৪ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৩ রান করতে পেরেছিলেন একবার। সেই সাইফ অবশেষে নিজেকে চেনালেন বিপিএলের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে। ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে দারুণ ব্যাটিং করছেন সাইফ। ইনিংসের অষ্টম ওভার পর্যন্ত ২২ বলে ৪১ রান করেছেন, মেরেছেন ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা।
১০ম ওভারের তৃতীয় বলে ফ্রি হিটে বিশাল এক ছক্কা মেরে ফিফটি পেয়ে গেছেন সাইফ।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট ৫৩ রান তুলেছে ঢাকা ক্যাপিটালস। সাইফ হাসান ১৫ বলে ২৬ ও আফগান ব্যাটসম্যান জুবাইদ আকবরি ৬ রানে ব্যাট করছিলেন।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ৩ ওভারে ২৫/১
তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে তৃতীয় বলে উইকেট পেয়েছেন তানভীর ইসলাম। চট্টগ্রামের এই বাঁহাতি স্পিনার ফিরিয়েছেন উসমান খানকে। আগের ওভারে ৩ বলে ১২ রান তোলে উসমান সীমানায় ক্যাচ হয়েছেন আমের জামালের। আউট হওয়ার আগের বলে ৪ মেরেছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। ৬ বলে ১৬ রান করা উসমান বিদায় নিলেন দলকে ২৫ রানে রেখে। এরপর উইকেটে এসেছেন সাইফ হাসান।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২ ওভারে ২০/০
আগের ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন শরীফুল ইসলাম। চট্টগ্রাম রয়্যালসের পেসার আজ ঢাকার বিপক্ষেও দারুণ শুরু করেছেন, প্রথম ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১ রান।
আরেক পেসার মুকিদুল ইসলামের পরের ওভারে অবশ্য পুষিয়ে নিয়েছে ঢাকা। উসমান খান ও জুবাইদ আকবরিরা দ্বিতীয় ওভারে তুলেছেন ১৯ রান।
ঢাকা ক্যাপিটালসের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে আগেই। চট্টগ্রামও উঠে গেছে প্লে–অফে। তবু ২০২৬ বিপিএলের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতার নয়। এই ম্যাচটি চট্টগ্রামের সরাসরি প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলা নিশ্চিত করার। আর সেটি করতে বড় ব্যবধানে না হারলেই চলবে মেহেদী হাসানের দলের। এমন ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে দলটি।
চট্টগ্রামে এলিমিনেটরে ঠেলে রংপুর রাইডার্সকে কোয়ালিফায়ারে ওঠাতে ৯০ বা এর চেয়ে বড় ব্যবধানে জিততে হবে ঢাকাকে।






