জামালপুর সদর উপজেলা পূর্ব ও পৌর শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা রেলপথ অবরোধ করেছেন। আজ রোববার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে জামালপুর শহরের ফিশারি এলাকায় এই অবরোধ শুরু হয়।

এই কর্মসূচির ফলে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকা পড়ে। পরে বেলা ১টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়।

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জামালপুর সদর উপজেলা পূর্ব ছাত্রদলের ৫৪ সদস্যের ও পৌর শাখা ছাত্রদলের ৩৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এর পর থেকে সংগঠনের একাংশের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা এই কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছিলেন।

আজ দুপুরে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা প্রথমে শহরের আজাদ ডাক্তার মোড় এলাকায় জড়ো হন। সেখান থেকে তাঁরা ফিশারি এলাকায় গিয়ে রেললাইনে অবস্থান নেন এবং লাইনের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় তাঁরা কমিটি বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এর ফলে ঢাকাগামী দেওয়ানগঞ্জের আন্তনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দিলে বেলা ১টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া পদবঞ্চিত কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, যে ছাত্রলীগ দ্বারা তাঁরা নির্যাতিত হয়েছেন, সেই ছাত্রলীগ থেকে ওই দুটি কমিটি করা হয়েছে এবং তাঁরা এই ভুয়া কমিটি বাতিলের দাবি জানান। তাঁরা ত্যাগী নেতাদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানান এবং দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, অল্প কিছু লোক শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, যাঁরা মূলত ছাত্রদলের সদস্য নন। তাঁদের অভিযোগগুলো মিথ্যা।

জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে জানান, খবর পেয়ে রেলওয়ে ও সদর থানা–পুলিশ যৌথভাবে অবরোধস্থলে গিয়ে কথা বলে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের অবরোধ প্রত্যাহারে রাজি করান। এরপর ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়।