হাওর এবং হাওর-নদীপাড়ে চিরহরিৎ ঝাঁকড়া হিজলগাছের ছায়ায় পথিক ও হাওরবাসীরা আশ্রয় পান। এই গাছগুলো বিস্তীর্ণ হাওরের নানা ভাঁজে একা বা দু-চারটি দলে দাঁড়িয়ে থাকে।

কিন্তু এবার মৌলভীবাজার শহর এবং শহরের কাছাকাছি মনু নদের পাড়ে অনেক হিজলগাছে ফুল ফুটেছে। গ্রীষ্মের এই সময় গাছগুলো গোলাপি ফুলে ঝলমল করছে। ভোরের হাওয়ায় ভাসছে ফুলের মৃদু সুবাস, আর ঝরা ফুলে পথঘাট রঙিন হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার সকালে শহরের কোর্ট রোডে জেলা প্রশাসকের বাংলোর কাছে একটি হিজলগাছে ঝুলন্ত লতায় অসংখ্য ফুল ফুটে ছিল। সবুজ পাতার মাঝে গোলাপি ফুলগুলো দূর থেকেই চোখে পড়ে। টুপটাপ ঝরে পড়া ফুলে ফুটপাতের টাইলস নকশিকাঁথার মতো সাজানো। গাছের নিচে দাঁড়ালে মিলে হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ।

শহরের উত্তরে বয়ে যাওয়া মনু নদের পাড়েও এবার অনেক হিজল ফুলে ভরেছে। চাঁদনীঘাট মনু সেতু এলাকা থেকে শান্তিবাগ পর্যন্ত নদীর তীরে বিভিন্ন গাছে ফুল দেখা যাচ্ছে। তবে খুব সকালে না গেলে ফুলের পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় না।

হিজলের ফুল নীরবে ফোটে, কাছে না গেলে সহজে চোখে পড়ে না। রাত পোহানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক ফুল ঝরে যায়। ভোরে অনেকে গাছের পাশ দিয়ে হাঁটেন, দৌড়ান বা থেমে গোলাপি ফুলের সৌন্দর্য দেখেন। খুব সকালে না গেলে গাছে বেশি ফুল দেখার সুযোগ মেলে না। আলো ফোটার আগেই ফুল ঝরতে শুরু করে। তখন ঘাসে, কচুর পাতায় বা হিজলের পাতায় আটকে থাকে ঝরা গোলাপি ফুল। রোদ বাড়লে অনেক গাছেই আর ফুল থাকে না। কোথাও ডালের ফাঁকে একটি-দুটি ফুল, কোথাও ঝুমকার মতো কিছু ফুলের লতা দুলে। ফুল ঝরলে লতাগুলো ফাঁকা লাগে, তবে নতুন গজানো হালকা সবুজ পাতাগুলোও মায়াবী।

হিজল সাধারণত হাওর, জলাভূমি ও নদীপাড়ে জন্মে। বর্ষায় পানিতে ডুবে থাকলেও এ গাছ সহজে টিকে থাকে। পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ গাছের ফুল থেকে মৌমাছি প্রচুর মধু সংগ্রহ করে। চিরহরিৎ এই ছায়াদানকারী গাছের কচি পাতা লালচে, পরে গাঢ় সবুজ হয়। হিজলের কাঠ নরম হলেও টেকসই, নৌকা বা গরুর গাড়ির মতো সাধারণ কাজে ব্যবহৃত হয়।