বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ কে হবেন, এই প্রশ্ন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানের নাম নিয়ে আগ্রহ চরমে থাকলেও তাঁর উচ্চ পারিশ্রমিক বাফুফের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে আজ পল্টনের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামে ব্যাডমিন্টন লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেখানে জাতীয় দলের কোচ নিয়োগে বিলম্ব এবং বাফুফের প্রস্তাবনা নিয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন এই সাবেক গোলকিপার।

দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের পর বাফুফে তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে। তাঁদের মধ্যে ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যানের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচিত। অন্য দুজন হলেন বার্নড স্টর্ক ও টমাস ডুলি।

কোচ নিয়োগ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বাফুফে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এবং তাদের যে টিম রয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু কোচদের একটি শর্ট লিস্ট হয়েছে। আমি আশা করছি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই আপনারা জানতে পারবেন নতুন কোচের নাম।’

কোলম্যান তাঁর সহকারী কোচ কিট সিমন্সকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী। দুজনের জন্য মাসিক সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা)। এর মধ্যে কোলম্যানের বেতনই ২৬ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ লাখ ৯২ হাজার টাকা)।

‘কোলম্যানের ব্যাপারে আমি ইতিবাচক’—প্রথম আলোকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। কোলম্যানের মতো ব্যয়বহুল কোচের অন্তর্ভুক্তি এবং বাজেট সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বাস্তবতা তুলে ধরেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রাতারাতি কোনো কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যে কোচ আসুক না কেন, তাঁকে একটি নির্ধারিত সময় দেওয়া উচিত। আমরা সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি, একটু অপেক্ষা করেন, আপনারা কাঙ্ক্ষিত ফল জানতে পারবেন।’

ক্রীড়া ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ ও বাজেটের অপ্রতুলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাজেট আমাদের চিন্তাভাবনার তুলনায় অপ্রতুল। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি এবং আশা করি আগামী অর্থবছরে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বাজেটের একটি বৃহৎ অংশ নতুনভাবে বাস্তবায়িত হবে।’