গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়ে নেন মুশফিকুর রহিম। তিন বছর আগে টি-টুয়েন্টি সংস্করণও ছেড়ে দেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটসম্যান এখন শুধু টেস্ট ক্রিকেটে খেলেন। এখানে নিয়মিত ভালো পারফর্ম করছেন এবং তাঁর ফিটনেস নিয়ে কখনো প্রশ্ন ওঠেনি।

এদিকে গত বছর ওয়ানডে দল পরপর চার সিরিজে পরাজিত হয়। মিডল অর্ডারে সমস্যা ছিল। তাই মুশফিকুরকে ওয়ানডেতে ফেরার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি রাজি হননি।

কেন এমন? পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে এ কারণ ব্যাখ্যা করেন মুশফিক। তিনি বলেন, “ওয়ানডে ক্রিকেটে যেটা বললেন, আমার কাছে (প্রস্তাব) এসেছিল। কিন্তু আমি মনে করি, বাংলাদেশ দল ইনশা আল্লাহ এমন একটা পর্যায়ে এখন আছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে, আমি মনে করি যে আমার ও রকম সার্ভিস দরকার হবে না।”

বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক ছিলেন মুশফিক। দেশের হয়ে ২৭৪ ওয়ানডে খেলে ৯ সেঞ্চুরি সহ ৩৬.৪২ গড়ে ৭৭৯৫ রান করেছেন। তবে রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে আর ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই। গত দেড় দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততায় পরিবারকে সময় দিতে পারেননি, এখন তা করে খুশি তিনি।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন ভালো ফল করছে, মুশফিক সেটা উপভোগ করছেন। সাম্প্রতিক মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে হারানোর পথে দুই ইনিংসে ৭১ ও ২২ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

লম্বা ক্যারিয়ারে ৬ বছর ৩৪ টেস্টে অধিনায়কত্ব করেছেন মুশফিক। দুই দশক ও ১০২ ম্যাচের এই যাত্রায় অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছেন তিনি।

ধারাবাহিকতার দিক থেকে টেস্টে এখন সেরা দল বাংলাদেশের বলে মনে করেন মুশফিক। তিনি বলেন, “আগেও অনেক দারুণ ব্যক্তিগত পারফরমার ছিল। কিন্তু সব মিলিয়ে আপনি যদি বলেন ধারাবাহিকতার দিক থেকে, যদি আপনি খেয়াল করে দেখেন, অবশ্যই এখন যে টেস্ট দলটা খেলছে, সব সময়ের চেয়ে বেশি ধারাবাহিক। আগে আমরা এক বছরে গড়ে হয়তো সর্বোচ্চ তিনটা টেস্ট খেলতাম, এ রকম হলে ফল পাওয়া খুব কঠিন। এখন ৮–১০টা খেলি, আগের থেকে এটা ভালো।”

এখন পারফর্মারের সংখ্যাও বেশি। মুশফিক বলেন, “এখন যারা আছে, তারা অভিজ্ঞ। সেদিক থেকে বলব, তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, তারা পারফর্ম করছে, যেটা আমি বললাম একটু আগে যে পারফরমারের সংখ্যাটা অনেক বেশি। পারফরমারের সংখ্যা যখন একটা দলে ৫ থেকে ৭–৮ জন হবে, সেই দলটা যেকোনো সংস্করণেই হোক তারা ভালো করবে।”

বয়স এখন চল্লিশের দিকে। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলেছেন। আর কতদিন খেলবেন? এ প্রশ্নে বলেন মুশফিক, “আপাতত কোনো লক্ষ্য নেই। কালকের ম্যাচটাই শেষ হয়ে যেতে পারে আবার...বাকিটা উপরওয়ালা জানে। মৃত্যুর আগে শেষ কয়টা দিন বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা (হাসি)। বেঁচে থেকে যে কয়টা দিন মাঠে কাটাতে পারি, এই ইচ্ছাটাই আছে। এখন ছাড়ব বা কবে ছাড়ব, এটা আসলে এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। ভালো সময় থাকতেই ছাড়ব ইনশা আল্লাহ।”

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজে ১–০ গড়ানে এগিয়ে স্বাগতিকরা।