জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবগঠিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পরপরই নেতাদের একাংশ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

কমিটি ঘোষণার মাত্র দেড় ঘণ্টা পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে চার নেতার পদত্যাগের খবর জানানো হয়। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই চারজনসহ মোট ২২ নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া চার নেতা হলেন—কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, মাহতাব উদ্দীন আহমদ ও দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ। তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এই নেতারা দাবি করেন, অর্থের বিনিময়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগর এনসিপির রাজনীতি ধ্বংসের পয়তারার প্রতিবাদে গণ–পদত্যাগ করেছেন।

এদিন রাত ১০টার দিকে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এই ১৬৮ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেন। এতে আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব এবং সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নে রাফসান জানি বলেন, “নবগঠিত কমিটিতে অনেক ত্যাগী ও সক্রিয় নেতা–কর্মীর মূল্যায়ন হয়নি। অনেকের পদায়ন যথাযথ হয়নি। আবার নতুন ও অজানা সদস্যদের উচ্চ পদ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রাথমিক ও দক্ষ সদস্যরা অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতি তাঁদের জন্য হতাশাজনক। এ অবস্থায় অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

রাফসান জানি দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজাউদ্দিন চট্টগ্রামে এসে মহানগর কমিটি পরিচালনা করছেন। তাঁরা সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু সুজাউদ্দিন সেই সহযোগিতাকে নিজের কৃতিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করছেন। সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৮ আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন। সেখানে দলের নীতি অগ্রাহ্য করে নতুন সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সমন্বয় করেছেন। এছাড়া নতুন আহ্বায়ক মোহাম্মদ শোয়াইবের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

অভিযোগের বিষয়ে এসএম সুজাউদ্দিনের মোবাইলে গতকাল রাত থেকে আজ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি।

আজ সকালে রাফসান জানির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে ২২ নেতার পদত্যাগের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, আজ লিখিত আকারে এই ২২ নেতার সইসহ পদত্যাগপত্র এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের কাছে পাঠানো হবে। গতকালের চার নেতার বাইরে নতুন ১৮ জনের মধ্যে মো. ওমর সাঈদ ও তাহজীব চৌধুরীর সঙ্গে মুক্তকণ্ঠ কথা বলে। তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন।

কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শোয়াইব মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “একটি বড় কমিটি অনেকের হয়তো প্রত্যাশানুযায়ী হয়নি। আবার কেউ নিজে পছন্দের পদ পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর পছন্দের ব্যক্তিরা হয়তো বাদ পড়েছেন। তাই মনোমালিন্য দেখা দিয়েছে। তবে তাঁদের জন্য কমিটির দরজা সব সময় খোলা থাকবে।”

কমিটির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, “দলের নীতির বাইরে কখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ঠিক নয়।” তিনি আশা করেন, পদত্যাগকারী ব্যক্তিরা তাঁদের ভুল বুঝতে পারবেন এবং যোগ দেবেন।

চট্টগ্রামে এনসিপির আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক যাত্রা শুরু হয় গত বছরের ৯ আগস্ট। সেদিন চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়ক কমিটি গঠিত হয়, প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি পদত্যাগ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিএনপিতে যোগ দেন। আরশাদুল হক ছাড়াও অন্তত পাঁচজন নেতা–কর্মী সমন্বয়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন, তাঁদের মধ্যে দুজন বিএনপিতে যোগ দেন।